ফিলিস্তিনে মুসলিমের দেহে বইছে নবী-রাসূলের রক্ত

ফিলিস্তিনে মুসলিমের দেহে বইছে নবী-রাসূলের রক্ত

পবিত্র মক্কা শরীফের মসজিদে হারামের খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন মুহাম্মদ আলে তালেব বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সব মানুষের মধ্য থেকে নবীদের বাছাই করেছেন। তেমনি পৃথিবীর নানা ভূমির মধ্যে কিছু ভূমিকেও বানিয়েছেন পবিত্র, সম্মানিত ও বরকতময়। জেরুজালেমের প্রাণ বাইতুল মুকাদ্দাস ইসলামের তিন সম্মানিত মসজিদের তৃতীয় মসজিদ। এখানে একেকটি নামাজের সওয়াব পাঁচশ গুণ বেশি। এটি মুসলমানদের প্রথম কেবলা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিরাজের স্মৃতিস্থান। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহ আনহু বাইতুল মুকাদ্দাস জয় করেন।’

‘প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ে ফিলিস্তিন ও আকসা’ শিরোনামের খুতবায় তিনি আরও বলেন, এই পবিত্র ভূমির মতো পৃথিবীর আর কোনো জনপদে এত নবী-রাসূলের কদম পড়েনি। ফিলিস্তিনের প্রতিটি ধুলিকণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নবীদের স্মৃতি। ফিলিস্তিনের প্রতিটি মুসলিমের দেহে বইছে নবী-রাসূলদের রক্ত। জেরুজালেম কেবল একটি জাতি বা দেশের ইস্যু নয়, এটা পুরো ‍মুসলিম উম্মাহর ইস্যু। কুদস, আকসা আমাদের কাছে আমানত। এর সঙ্গে পুরো উম্মাহর ভাগ্য জড়িত। এই পবিত্র ভূমি রক্ষায় এখন পৃথিবীর সব মুসলমানের একতা প্রয়োজন। এই ইস্যুতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। এখন সামাজিক মাধ্যমে বা মিডিয়ায় পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি কাম্য নয়। আল্লাহর দেওয়া কুদস, আকসা ও ফিলিস্তিন আমাদের ছিল এবং আমাদেরই হবে।

বাস্পরুদ্ধ কণ্ঠে কাবা শরিফের এই খতিব বলেন, কাবার পর এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম মসজিদ। বনি ইসরাইলদের আগে ও পরে সব সময়ই এটি ছিল এক আল্লাহর ইবাদতের স্থান। এই মসজিদে প্রধান চার আসমানি ধর্মের গ্রন্থই পঠিত হয়েছে। এখানে আমাদের শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে ঐতিহাসিক ও মহাঅলৌকিক মিরাজের রাতে সব নবী-রাসূল নামাজ পড়েছেন। এতে করে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে, শেষ নবী আসার পর এই মসজিদটি কেবল এক আল্লাহর ইবাদতকারী মুসলিমদেরই। আগের সব বাতিল। তাই কুদসের প্রকৃত হকদার মুসলমানরাই। এ নিয়ে কোনো তালবাহানা সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জেরুজালেম নিয়ে যে হঠকারী সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে, তা শুধু বেআইনিই নয়, একটি জাতির বিপুল জীবন ক্ষয় ডেকে আনবে। ফিলিস্তিনের পাশে আমরা ছিলাম ও থাকব। আকসা মুসলমানদের ছিল ও থাকবে। ইনশাআল্লাহ আমাদের জয় হবেই। প্রত্যেক মুসলিম শাসকের উচিত, এ বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া এবং ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মাধ্যমে আকসার অধিকার রক্ষা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 15 =