হজ থেকে কত আয় করে সৌদি আরব?

হজ থেকে কত আয় করে সৌদি আরব?

সারা পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান প্রতি বছর হজ করতে সৌদি আরবে যান। আর ঠিক ওই সময়টাতেই সৌদি আরবে আর্থিক লেনদেনের হার অনেকটাই বেড়ে যায়। অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসে, সৌদি আরবে হজ আর ওমরাহ করতে যেসব মুসলমান যান, তাদের কাছ থেকে দেশটি আসলে কত অর্থ রোজগার করে? সৌদি আরবের অর্থনীতির কত ভাগ এই রোজগার থেকে আসে?

এই বিষয়ে বিবিসির ফার্সি বিভাগের আলী কাদিমি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেন।
এতে বলা হয়, অর্থের অঙ্ক বের করতে গেলে প্রথমেই দেখা দরকার হজ করতে ঠিক কত সংখ্যক মুসলমান সৌদিতে যান? গত বছর মোট ৮৩ লাখ মানুষ হজ করতে গিয়েছিলেন। বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়ে হজ করা যায়। প্রতিটি দেশের জন্য একটা কোটা নির্ধারণ করে দেয় রিয়াদ। এটাও মাথায় রাখতে হবে যে সৌদি বাসিন্দাদের একটা বড় অংশও কিন্তু হজে যান। গত বছর সৌদি আরবের যত বাসিন্দা হজে গিয়েছিলেন, সেই সংখ্যাটা অন্যান্য দেশ থেকে আসা মুসলমানদের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

অন্যদিকে সারা বছর ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যায়। গত বছর প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে যান। নানা দেশ থেকে যারা সৌদি আরবে গেছেন, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই ওমরাহ করতে গেছেন। গত বছর হজ থেকে সৌদি আরবের রোজগার ছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার (১২০০ কোটি টাকা)। সৌদি আরবে যাওয়া তীর্থযাত্রীরা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেন। এই অর্থের একটা বড় অংশ সৌদি অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে।

মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ৪৬০০ ডলার আর স্থানীয়রা প্রায় ১৫০০ ডলার ব্যয় করেন। তবে একেক দেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য আবার একেক রকম খরচ।

বিভিন্ন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কোটাই সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ প্রতি বছর হজে যান। এটা মোট হজযাত্রীর প্রায় ১৪ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে পাকিস্তান (১১%), ভারত (১১%) আর বাংলাদেশ (৮%)।

নাইজেরিয়া, ইরান, তুর্কি, মিসর এই দেশগুলোরও কোটা মোটামুটি একই রকম। অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের যা রোজগার হয়, তার থেকেও বেশি আয় করে তারা হজ থেকে। তবে তারা চেষ্টা করছে তেল বিক্রি করে তাদের আয় আরও বাড়াতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 2 =