এদেশ কি সত্যিই ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হলো?

এদেশ কি সত্যিই ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হলো?

পত্রিকার পাতা খুলতেই ধর্ষণের খবর। টিভির পর্দায় নিত্যদিন ঠাঁই পাচ্ছে ধর্ষণের খবর। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন পত্রপত্রিকা কিংবা টিভিপর্দায় ধর্ষণের খবর দেখা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে নিয়ে থানা, পুলিশ প্রশাসন সদাসর্বদা ব্যস্ত নিত্যদিন নানান জায়গায় ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ঘটনা ঠেকাতে। কিন্তু তারা দিশেহারা। পথেঘাটে, স্কুল কলেজ, ভার্সিটিতে এমনকি নারীসমাজ খোদ নিজের ঘরেও ধর্ষণ ঘটনা থেকে নিস্তার পাচ্ছেনা। আজকের নারীসমাজ নিরাপদ নয় কোথাও। দিনদিন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ধর্ষণকাণ্ড মহামারী আকার ধারণ করছে। কোনো পন্থাই সফল হচ্ছে না ধর্ষণকাণ্ড রুখতে। আগামী প্রজন্ম নিয়ে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত, দিশেহারা।
.
আজ থেকে অন্তত দশবছর পূর্বেও এদেশে প্রতিদিন ধর্ষণের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ এভাবে ধর্ষণকাণ্ড বিস্তার লাভ করার কারণ কী? এক নাম্বার কারণ হলো ইসলাম বিদ্বেষী নৈতিকতা বিবর্জিত সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা। সাথে সহশিক্ষা তো ধর্ষণকাণ্ড বৃদ্ধিতে মারাত্মক ভূমিকা রাখছেই। দুই নাম্বার কারণ যুব সমাজের মধ্যে ধর্মীয় রীতিনীতি ও ধর্মীয় শিক্ষার বড়ো অভাব। তিন নাম্বার কারণ দেশে প্রতিবেশী ভিনদেশী অপসংস্কৃতি আমদানির কুফল। যা আমাদের চূড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনবে নিশ্চিত, যদি এখনো এর বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার না হই। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ধর্ষণ বৃদ্ধির পিছনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
.
ধর্ষণ মহামারী যেভাবে প্রতিদিন বিস্তার লাভ করছে এখন থেকে যদি এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পন্থা অবলম্বন করা না যায় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এসব কর্মকাণ্ড থেকে প্রজন্মকে নিরাপদ রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। এক সময় ‘ধর্ষণ’ শব্দটি মানুষ মুখে নিতেও লজ্জাবোধ করতো। আর এখন প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে এসব শব্দ। ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে টিভিতে যখন ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা দেওয়া হয়, তখন লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। আর ধর্ষণ নিয়ে বাচ্চাদের মুখে যখন অপ্রীতিকর প্রশ্ন শুনি তখন বিব্রত না হয়ে পারা যায় না। অবুঝ শিশুদের মুখেও আজ ধর্ষণ শব্দটি শোনা যায়। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এসব ধর্ষণ, ইভটিজিং স্বাভাবিক ঘটনায় রূপ নেবে।
.
ধর্ষণ ঠেকাতে সরকার, প্রশাসন কতোকিছুই না করছে! কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মা’র সামনে মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছে। স্বামীর সামনে স্ত্রী ধর্ষিতা হচ্ছে। ভাইয়ের সামনে বোন ধর্ষিতা হচ্ছে।

প্রতিকারের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেই। টিভি, পত্রিকায় ধর্ষিতাকে প্রদর্শন করা হয়, ধর্ষককে নয়। ধর্ষণের পর ধর্ষিতার ফ্যামিলির উপর আমাবস্যার রাত নেমে আসে, ধর্ষক যদি সরকার দলীয় হয়। ধর্ষক চিহ্নিত হলে মাঝেমধ্যে প্রশাসন ধর্ষককে জেল জরিমানা করে থাকে। কদিন পর সে পুনরায় ফিরে এসে সেম পেশায় জড়িয়ে পড়ে। আবারো কিছু অসহায় বোন সম্ভ্রম হারায়। রাগে ক্ষোভে অনেকসময় আত্মহত্যা করে। কিন্তু ধর্ষক নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ায়। ধর্ষণ ঠেকানো যায় না।
.
একমাত্র ইসলামী অনুশাসনই পারে ধর্ষণকাণ্ড ঠেকাতে। এজন্য দ্বীনি শিক্ষা ঘরে ঘরে জারি করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। মক্তব শিক্ষাকে গুরুত্ব দিন। আগের মত স্কুলের সময় সকাল ১০টার পরে দিন। সকালে সব মুসলমানদের ছেলেমেয়েরা মক্তবে যাক। দ্বীনি শিক্ষা শিখুক। ধর্ম চর্চা করুক। তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হোক। সমাজের অপরাধ অনেক কমে যাবে।

এর উদাহরণ দেখুন- মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের হাতে ধর্ষণের শিকার নারীদের সংখ্যা কত? পত্রিকার সব ধর্ষণের নিউজ জড়ো করে দেখুন ১০০টি ধর্ষণের ঘটনায় কয়টা মাদ্রাসার ছাত্র পাবেন?

আর নাটক, সিনেমায় যৌন আবেদনের সুরসুরি দেয় এমন দৃশ্য বাদ দিন। নাটক, সিনেমার গল্প হোক যাপিত জীবনের বিভিন্ন শিক্ষনীয় গল্প নিয়ে।
এখন আর এই কথা বলার অবকাশ নেই যে, শিক্ষনীয় বা ইতিহাস ভিত্তিক কিছু চলে না। এটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, মাছরাঙায় রাত ৯টায় প্রচারিত দিরিলিস আরতুগুল সিরিয়ালটি। তুর্কি ভাষা থেকে বাংলায় ডাবিংকৃত এ সিরিয়ালটি দেখতে দর্শক উপচে পড়ছে। উসমানী খেলাফতের আগের যুগকে ফুটিয়ে তোলা এ সিরিয়ালটি ইউটিউবে গোগ্রাসে পাঠক দেখছে।

আমাদের হাজী শরীয়তুল্লাহ, শাহজালাল, শাহপরান, তিতুমীরসহ ঐতিহাসিক মানুষদের নিয়ে বিভিন্ন কিছু তৈরি করুন। তরুণদের মনে এদের চিত্র ফুটে উঠলে ধর্ষণের চিন্তাও মাথায় আসবে না।

আমাদের সমাজ থেকে যাবতীয় অনাচার ও অনৈতিক কার্যকলাপ দূর করার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু নির্মাণ হোক। এছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার মানসে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নেয়া বিশেষ প্রয়োজন।

লেখক: আলী আজম, শিক্ষক, তাহফিযুল কুরআন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − seventeen =