তরুণ বয়সেই কাবা জিয়ারত

তরুণ বয়সেই কাবা জিয়ারত
তরুণদের জন্যই আল্লাহতায়ালা বিশেষ একটি ইবাদত দিয়েছেন। তার নাম হজ। হজের ফরমান জারি করে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, মানুষের মধ্য থেকে যারা এই ঘরে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তারা যেন এই ঘরের হজ সম্পন্ন করে। এটি তাদের ওপর আল্লাহর হক। আর যে ব্যক্তি এ নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করবে তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ বিশ্ববাসীর প্রতি মুখাপেক্ষী নন। (সূরা আলে ইমরান, ২ : ৯৭)

হজ ইসলামের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর হজ আদায় করা ফরজ। সামর্থ্যবান-এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা যানবাহন বা যানবাহনের ভাড়া এবং অন্যান্য পাথেয় ও খরচাদি সংগ্রহ করতে সমর্থ হওয়ার পাশাপাশি শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (তাফসিরে মাজহারি, ইবনে কাসির, তাবারি) যে ব্যক্তি শারীরিকভাবে সক্ষম নয় কিন্তু আর্থিকভাবে সক্ষম তার ওপর থেকে হজের দায়িত্ব বাদ যায় না। এ ক্ষেত্রে সে নিজে হজ না করে এমন একজনকে দিয়ে হজ করাবে যে শারীরিকভাবে সক্ষম। শরিয়তের পরিভাষায় একে বদলি হজ বলে। (ফিকহুস সুন্নাহ)

অন্য ধর্মীয় বিষয়গুলোর মতো হজকেও আমরা উল্টো খাতে প্রবাহিত করে ফেলেছি। আমরা এ হজকে বুড়ো বয়সের ইবাদত বলে মনে করে নিয়েছি। তাই তো হজ কাফেলায় তরুণ হাজীর চেয়ে বৃদ্ধ হাজীর সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। হজের যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো কি তরুণ ছাড়া কারও পক্ষে শোভা পায়? এই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম যে মানুষটি হজ করেছিলেন, সেও ছিল তরুণ। তরুণ ইসমাঈল-ই (আ.) সর্বপ্রথম বায়তুল্লায় হজ সম্পাদন করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তারুণ্যদীপ্ত ঈমানের অধিকারী তারই পিতা ইবরাহিম (আ.)। ঈমানের অগ্নিপরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ ইসমাঈল মাতা তরুণী হাজেরা-ই (আ.) সর্বপ্রথম সাফা ও মারওয়া দৌড়িয়ে হজ কার্য সম্পাদন করেছিলেন। তারও অনেক আগে এই ঘরে ইবাদত করেছিলেন পৃথিবীর প্রথম তরুণ আদম (আ.)। যাকে আল্লাহ সৃষ্টিই করেছেন তারুণ্য দিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, আমাদের দেশ থেকে যেসব প্রেমিক হাজী মাবুদের ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য কালো গেলাফে ঢাকা সোনালি দরজার ঘরটিতে লাব্বাইকার গান গাইতে যান, তাদের অধিকাংশই বুড়ো বয়সের। আমাদের দেশের হাজীদের তুলনায় অন্যান্য দেশের হাজীরা যথেষ্ট তরুণ বয়সের।

যুব বয়সে গোনা কর, বুড়ো হলে হজ কর এটি যেন আমাদের দেশে একটি নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। আমরা হজে যাই যৌবনের পাপ মাফ করানোর জন্য আর উন্নত মুসলিম বিশ্বের তরুণরা হজে যায় যৌবনে পাপ না করার শপথ নেয়ার জন্য। তাই দেখা যায়, বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম দেশের নাগরিক হয়েও হরহামেশা আমরা এমন অনেক কাজ করে ফেলি যা ভাবতেও গা শিউরে উঠে। সন্তান কর্তৃক বাবা-মা খুন, বাবা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষণ, ষাট বছরের বুড়ো কর্তৃক ছয় বছরের শিশু নির্যাতন- এ রকম হাজারও লজ্জাজনক কাজ আমাদের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে অহরহ। এর পেছনে মূল কারণ একটাই, আমাদের তরুণরা হয়ে পড়েছে কোরআনবিমুখ। কোরআন বলছে, যখন তোমার সামর্থ্য আছে তখন হজ করে মাবুদের প্রেম রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নাও। কিন্তু আমরা এমন এক সময় হজ করি যখন আমাদের ছানি পড়া চোখে খোদার সব রঙ ধূসর মনে হয়। হজ যদি হয় মাবুদের ঘরে সাদা কাফন গায়ে পেঁচিয়ে প্রেমের মরা মরে লাব্বাইকার জলে ভেসে থাকা, তবে এ দুঃসাহসী প্রেম অভিযান তো তরুণদের জন্যই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 2 =