মুসল্লিদের মাঝে ইমামের জনপ্রিয়তা থাকা জরুরি

মুসল্লিদের মাঝে ইমামের জনপ্রিয়তা থাকা জরুরি

মসজিদে জামায়াতের নামাজ আদায় করা হয় একজন ইমামের নেতৃত্বে। নামাজের এই ইমাম হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে বিশেষ কিছু যোগ্যতা ও গুণাবলীর অধিকারী হতে হয়। তাকে অন্য সবার চেয়ে বেশি ইসলামি জ্ঞান ও তাকওয়ার অধিকারী এবং ন্যায়পরায়ণ হতে হয়।

কারণ, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যেকোনো জামায়াতের ইমাম মহান আল্লাহর কাছে ওই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি বিবেচিত হন। কাজেই তোমরা নিজেদের জামায়াতের নামাজের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যক্তিকে ইমাম নির্বাচিত করো।”

ইমাম হওয়ার জন্য মুসল্লিদের মধ্যে জনপ্রিয়তা থাকা জরুরি। অর্থাৎ, তার পেছনে যারা নামাজ আদায় করবে তাদের সবাই যেন তাকে ইমাম হিসেবে মেনে নেয়। বিশেষ করে ইলম বা ধর্মীয় জ্ঞান, পবিত্রতা, ন্যায়পরায়ণতা, তাকওয়া, বিনয় ও উত্তম চরিত্রের দিক দিয়ে প্রশ্নাতীত কোনো ব্যক্তি মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সাধারণত কোনো প্রশ্ন ওঠে না। এই ইমামের ধর্মীয় জ্ঞান যত বেশি হবে এবং তিনি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর যত বেশি দিতে পারবেন সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা তত বেশি বেড়ে যাবে। এরকম একটি সমাজের মুসল্লিদের ধর্মীয় জ্ঞানও পর্যায়ক্রমে বেড়ে যেতে থাকে এবং গোটা সমাজ ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান যদি সঠিকভাবে উপলব্ধি করেন এবং তা সুন্দরভাবে মুসল্লিদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে তিনি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হবেন। এ ধরনের ইমাম মুসল্লিদের চেয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি প্রিয় হয়ে ওঠেন।

মসজিদের ইমাম হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ন্যায়পরায়ণ হওয়া। অর্থাৎ, তিনি যেন প্রকাশ্যে কোনো পাপের কাজ না করেন। এ সম্পর্কে ইমাম জাফর সাদেক (আ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি লজ্জাশীল, যিনি ব্যাভিচার, সুদ, ঘুষ ও মদপানের মতো কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকেন, যিনি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জামায়াতের নামাজ ত্যাগ করেন না তিনি হচ্ছেন ন্যায়পরায়ণ। এ ধরনের মানুষের ছিদ্রান্বেষণ ও গীবত করা মুসলমানদের জন্য হারাম। মহানবী (সা.)ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেছেন: মানুষের সঙ্গে লেনদেনে যিনি কম দেন না, যিনি কথাবার্তায় সত্যবাদী এবং সব অবস্থায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন তার মহত্ত্ব পূর্ণতা পেয়েছে এবং তিনি প্রকাশ্য ন্যায়পরায়ণতার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

মসজিদে জামায়াতের নামাজ আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আউয়াল ওয়াক্তে বা ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নামাজ আদায় করা। লম্বা মোনাজাত এবং ওয়াজ-নসিহত জামায়াত শেষে করতে হবে। জামায়াতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের সবার ঈমান, আমল ও শারিরীক শক্তি একরকম নয়। দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত বহু মানুষ সময় করে জামায়াতের নামাজ আদায় করতে আসেন। কাজেই ইমামকে প্রত্যেকের শারিরীক সক্ষমতা এবং সময়ের বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হবে। হাদিসে এসেছে, যিনি জামায়াতের ইমাম হবেন তাকে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে কেরাত ছোট করে দ্রুত নামাজ শেষ করে দিতে। কারণ, মুসল্লিদের মধ্যে অনেক শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ও ব্যস্ত মানুষ রয়েছেন। তাদের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর। তবে একাকী নামাজ আদায় করার সময় নামাজকে যতখানি সম্ভব দীর্ঘ করা যেতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 3 =