বিশ্বের সবচেয়ে সুললিত কণ্ঠের হাফেজ বাংলাদেশের হুজাইফা

বিশ্বের সবচেয়ে সুললিত কণ্ঠের হাফেজ বাংলাদেশের হুজাইফা

দুবাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হুফফাজ কন্টেস্টে ফাস্ট হওয়া বাংলাদেশের কিশোর তরিকুল ইসলামের কথা সকলেই জানেন কিন্তু হুজাইফার কথা অনেকেই জানেন না। সম্মিলিত প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেও হুজাইফা তাঁর মায়াবী কণ্ঠের যাদু দিয়ে মুগ্ধ করেছে বিচারকদের। ঘোষিত হয়েছে ‘দ্যা বেস্ট ভয়েস হাফিজ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ বা বিশ্বের সবচে’ সুন্দর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াতকারী হাফিজ হিশেবে। টু পয়েন্ট ফাইভ মিলিয়ন আমেরিকান মুসলমান একজন হুজাইফার জন্য আজ গর্বিত। কারণ, হুজায়ফা বাংলাদেশি বংশদ্ভুত একজন আমেরিকান।

দ্যা ইউনাইটেড স্ট্যাট অব আমেরিকা। যে দেশের ম্যাক্সিমাম মুসলিম বাবা-মা তাঁদের ছেলে-মেয়েকে কোনো রকম কুরআন তেলাওয়াত শেখাতে পারাকেই ছেলে-মেয়ের প্রতি দ্বীনি দায়িত্ব পালনের যথার্থতা ধরে নেন, সে দেশে হুজাইফার বাবা-মা প্রমাণ করেছেন ছেলে-মেয়েকে বাবা-মা যেভাবে চান, সেভাবেই বড় করতে পারেন। স্থান-কাল কোনো ব্যাপার না।

হুজাইফার বাবা ইমরান সিদ্দিকি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। মা সুমাইয়া কামাল হাউজ ওয়াইফ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন তাঁরা। হুজাইফা বর্ন এন্ড ব্রডাপ ইন আমেরিকা। হুজাইফারা তিনভাই দুইবোন। পাঁচ ভাইবোনের পাঁচজনই হাফিজ, আমেরিকার মত একটি দেশে, ভাবা যায়!

দুই
হুজাইফার মামাদের কথা একটু বলা দরকার। কারণ, হুজাইফা তাঁর সাফল্যের পেছনে মামাদের অবদানের কথাই জানিয়েছে। বলেছে, মামাদের দ্বারাই সে প্রভাবিত। তাঁর চার মামা আহমদুল্লাহ কামাল, মুহাম্মদুল্লাহ কামাল, আব্দুল্লাহ কামাল এবং ওয়ালিউল্লাহ কামাল। চারজনই হাফিজ। চারজনই আলেম। চারজনই নিউ ইয়র্কের চারটি মসজিদের খতিব। তিন নাম্বার মামা হাফিজ মাওলানা আব্দুল্লাহ কামাল’র কথা একটু আলাদা করে বলি। যোগ্যদের মূল্যায়িত হওয়া দরকার।

আব্দুল্লাহ ভাই ঢাকার জামেয়া রাহমানিয়ার ফারিগ। মাস্টার্স করেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন মিশরের আল-আযহার ইউনিভার্সিটিতে। নিউইয়র্ক বায়তুল মুকাররাম মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্বের পাশাপাশি হাদিসের দারস দিচ্ছেন দারুল উলুম নিউ ইয়র্কে। সেই সাথে জিটিএফ’র আন্ডারে ইসলামিক স্টাডিজে পিএইচডি করছেন। এমন মামা থাকলে হুজাইফাদের হুজাইফা না বনে উপায় আছে!

হুজাইফার দাদা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (রিটায়ার্ড) অ্যাসিস্ট্যান্ট চীপ। উনার ৩১জন নাতি-নাতনী এবং প্রায় সবাই হাফিজে কুরআন। তিনি তাঁর সন্তানাদিকে স্যাকুলার শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে থেকেও কীভাবে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যায়, সেই দীক্ষাটা বেশ ভালোভাবেই দিতে পেরেছেন।

তিন
আড়াই মিলিয়ন মুসলমান’র দেশে এই আমেরিকায় বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা অভারলোক করলে মুসলমানরা পূর্ণ অধিকার নিয়েই আছেন। চাইলে ধর্মীয় অনুশাসনে পরিচালিত হতে পারছেন। এদেশের সংবিধান সেই অধিকার দিয়ে রেখেছে। আমেরিকার সংবিধানে যে কোনো ধর্ম পালন করার অথবা কোনো ধর্মই পালন না করার অধিকার দেয়া আছে।

এদেশের মা-বাবা চাইলে তাদের ছেলে-মেয়েকে পূর্ণ ইসলামী শিক্ষায় আলোকিত করে তুলতে পারেন। এই সুযোগ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। সম্ভাব্যতা হুজাইফাদের মাধ্যমে প্রমাণিত। তবুও কিছু বাবা-মা’র ঔদাসিন্য ছেলে-মেয়েকে লাগামহীনতার দিকে ঠেলে দেয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় অবলম্ভন করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম নিয়ে শংকিত হবার যথেষ্ট কারণ আছে। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে এক ঝলক ঘুরে আসা যাক হাশরের মাঠ থেকে।

চার
সেদিন একজনের বোঝা অন্যজনকে ওঠাতে হবে না। এ ক্ষেত্রে না উঠিয়ে উপায় থাকবে না। সন্তানকে যখন বলা হবে, যাও বাবা, আরাম করে জাহান্নামে যাও। তুমি যে অপকর্ম করে এসেছো, তাতে জাহান্নামই তোমার উপযুক্ত ঠিকানা…। তখন তারা তাদের মা-বাবাকে খুঁজবে। বলবে, হে আল্লাহ! আমার বাবা-মাকে আমার সামনে এনে দাও। ‘নাজআল হুমা তাহতা আক্বদা-মীনা লিইয়াকূনা মিনাল আসফালীন’। আমি তাদের বুকে পা দিয়ে জাহান্নামে যেতে চাই।
-কেনো? তাদের কী সমস্যা?
-কারণ, দুনিয়ার জীবনে তাঁরা আমাকে সেই সবকিছু দিয়েছিল যা না দিলেও সমস্যা ছিল না। কিন্তু যা না দেয়ার কারণে আজ এই কঠিন সমস্যায় পড়তে হল, সেই জিনিষটা তাঁরা আমাকে দেয়নি আল্লাহ।
-কী দেয়নি তাঁরা? জিনিসটা কী?
-বাঁচার উপায়। তারা আমাকে জগতের যাবতীয়াবলী শিখিয়েছিল, কিন্তু কীভাবে কী করলে জাহান্নাম থেকে বাঁচা যায়, তা শেখায়নি। তাই আজ আমি তাদেরকে রেখে জাহান্নামে যেতে চাই না। তারাও আমার সাথী হোক।

আমেরিকান বাঙালি বাবা-মা!
মুসলিম মা-বাবা!
আমাকে মাফ করবেন। কথা বলতে যেয়ে এমন কিছু বাক্য আমাকে ব্যবহার করতে হবে যেগুলো শুনতে আপনাদের ভাল লাগবে না। তবুও কথাগুলো আমি বলব। ক্ষমা চেয়ে রাখলাম।

পাঁচ
শিক্ষায় কোনো দোষ নেই দীক্ষা যদি সাথে থাকে। মাল্টি কালচারাল এই দেশে মুসলমানের সন্তানগুলো স্কুল থেকে শিক্ষা পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বাবা-মা থেকে প্রয়োজনীয় দীক্ষাটা পাচ্ছে কি না, সেটাই হল ভাবনার বিষয়। সবেমাত্র রমযান গেলো। এ জন্য রমযান থেকেই উদাহরণ দেয়া যাক।

রমযারের শেষ বিকেলে প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগে। পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়; অবস্থা। কিন্তু রোজাদার তবুও খাবার-পানি স্পর্শ করে না।
কেনো করে না?
পেটে ক্ষিধা আছে। সামনে খাবার আছে। তাহলে খাচ্ছে না কেন? তৃষ্ণা আছে বুক ভরা। সামনে বরফ-শীতল পানি। হাত বাড়ালেই মিলে যায়। তবু কেনো টান দিয়ে পানির গ্লাস মুখে নিচ্ছে না? কারণ কী?
কারণ আর ব্যাখ্যা করার দরকার হবে না, কারণ, ‘কারণ’ সকলেরই জানা।

ঠিক এই কাজটিই করার ছিল। কলিজার টুকরো সন্তানগুলোর জন্য ঠিক এই অনুশীলনটাই ডাইভার্ট করবার ছিল। বাচ্চাগুলো যদি সাতেই সাতাশের ব্যাপার-সেপারে প্রাতিষ্ঠানিক সবক পেয়ে যায়, তার ডান-বামের সাদা-কালোদের যদি দেখে মাথা ঝাঁকিয়ে সাতাশের সবক মুখস্ত করছে, থিওরিক্যালি, প্র্যাকটিক্যালিও, আর দেখে দেখে তারাও যদি চায় ভাল ছাত্র (!) হতে, ওদের মত করে, তখন কোমলমতি বাচ্চাগুলোকে দমিয়ে রাখতে পারে সেই ব্যাপারটি, যেটি তার বাবা-মা’কে রমযানের দিন-দুপুরে দমিয়ে রেখেছিল।

বাবা-মা’র উচিত ছিল আদরে-ভালোবাসায় সন্তানের অন্তরে সেই অনুভূতির বীজটি বুনে দেয়া। বীজতলার পরিচর্যা করা। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা এবং বাচ্চাগুলোর জন্য কালচার-প্রুফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা। যাতে পানিতে ভেসে বেড়ালেও তাদের শরীর না ভেজে। তাদের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অর্জিত জ্ঞানগুলো শেষ বিকেলে ঘরে আসার পর বাবা-মায়ের দেয়া সেই অনুভূতির ছাকনিতে উঠে যেনো দু’ভাগ হয়ে যায়। বর্জ্যগুলো বাষ্পায়িত হয়ে উড়ে যায় আর সেগুলোই কেবল থাকে, যেগুলো থাকবার কথা।

ছয়
হুজাইফার বাবা-মা’র মত ব্যতিক্রম যারা আছেন, তাদের কথা আলাদা। কথা বলছি তাদের নিয়ে, যাদের জন্য প্রযোজ্য।

-বলছি সেই বাবা-মা’র কথা, যারা তাদের কঁচি-কাঁচা সন্তানগুলোকে ফর ফর করে ইংলিশ বলতে শুনে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন আর ভাবেন, জীবনে আর কী লাগে!

-বলছি তাদের কথা, যারা তাদের পিচ্চি ছেলে-মেয়েকে আমেরিকান একসেন্টে কথা বলতে শুনে ভাবেন, ভাগ্যিস সময়মত জায়গামত নিয়ে এসছিলাম। নিজে যা পারিনি, ছেলেটি তাই পারছে। মেয়েটি তাই করছে। আহা সুখ!

-বলছি সেই বাবা-মা’র কথা, যারা ভুলে গেছেন তাদের ছেলেবেলাকে। তাঁরা যখন শিশু ছিলেন, তখন তাদের বাবা-মা তাদের পেছনে কেমন সার্ভিস দিয়েছিলেন! নিজেরা খেয়ে না-খেয়ে কোন আদবে, কেমন লেহাজে তাদেরকে বড় করে তুলছিলেন।

-বলছি সেই মা-বাবার কথা, যারা গড্ডালিকা-প্রবাহে গা ভাসিয়ে ভুলে গেছেন মুসলমানিত্বের বেইসিকগুলো তাঁরা সর্ব প্রথম কাদের থেকে পেয়েছিলেন!

-বলছি তাদের কথা, যারা ভুলে বসে আছেন তাদের শৈশবকে। যে কারণে তাঁরা নিজেরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে যেভাবে যা পেয়েছিলেন, তাদের সন্তানগুলোকে তাঁরা সেগুলো দিতে পারছেন না।

অনেককেই দেখি এই বলে গা বাঁচানোর চেষ্টা করেন যে, সেই দেশ সেই সময় আর এই দেশ এই সময় তো আর এক না। তখন যেভাবে যা সম্ভব ছিল এখন এখানে তা কেমন করে সম্ভব?

কথাটি আমি বিশ্বাস করতে পারি না। পারতাম, যদি ব্যতিক্রম চোখে না পড়ত। যদি হুজাইফাদের মত কিছু ফ্যামিলির কথা না জানতাম। আমি যখন এদেশেও তেমন মেয়ে দেখি, যাদের দেখা যায় না,
-আমি যখন এদেশেও তেমন কোনো বাঙালি বাচ্চা মেয়েকে স্কার্ফ পরতে দেখি, যে বয়সের মেয়েরা বাংলাদেশেও সাধারণত স্কার্ফ পরে না,
-আমি যখন এদেশেও ছোট্ট ছেলেকে বাবার আঙুল ধরে ধরে মসজিদে আসতে দেখি, যে বয়সের ছেলেরা বাংলাদেশেও এমন হয়ে ওঠে না,
… তখন কীভাবে বিশ্বাস করি তাদের ঠুনকো অজুহাত! অসম্ভব হলে তো সবার বেলাতেই হত। কেউ কেউ যখন পারছে, তাতেই প্রমাণ হয় তাঁরা চাইছিল বলেই পেরেছে। এখন যারা পারছে না, তাঁরা চাইছে না বলেই পারছে না, এটা পরিস্কার।

সাত
সন্তানের জন্য বাবা-মা কত কী না করছেন! দিনকে রাত আর রাতকে দিন করে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। আরামকে হারাম করছেন। দিনে কাজ করার পর রাতে আবার ওভার ডিউটি করছেন দুটো ডলার বেশি জমানোর আশায়। অনেক মায়েরাও ঘরের কাজ করার পাশাপাশি বাইরে গিয়েও পার্টটাইম কিছু করবার চেষ্টা করছেন। এই বাবা-মা জানেন খুব বেশিদিন তাঁরা বাঁচবেন না। কাউকেই বেশিদিন বেঁচে থাকার নিয়ম নেই। বয়স হয়ে যাচ্ছে। একদিন মরে যাবেন তাঁরা। তাহলে হালকা-পাতলা কাজ করে ফ্যামিলির নীড ফুলফিল করলেই যথেষ্ট ছিল। তবুও তাদের বাড়তি পরিশ্রম।
কিন্তু কেনো?
কারণ একটাই। নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। ছেলে-মেয়েরা একটু ভালভাবে বাঁচবে, একটু রিলাক্সেবল লাইফ অ্যাচিভ করবে, সে জন্যই তাদের এত মাথার ঘাম পায়ে ফেলা।

কষ্ট হয়, দুঃখ হয় আবার করুণাও হয় সেই বাবা-মা’দের জন্য, যারা তাদের সন্তানদের জন্য এত কষ্ট করছেন কিন্তু যেভাবে চললে/চালালে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, সেই শিক্ষাটুকু দিচ্ছেন না। কেমন বাবা-মা তাঁরা! কেমন তাদের ভালোবাসা! কেমন দায়িত্ববোধ!

আট
হুজাইফা আর তাঁর ফ্যামিলি থেকে আমেরিকান মুসলিম ফ্যামিলিগুলো উদ্বুদ্ধ হতে পারে। ভাবতে পারে, হুজাইফার বাবা-মা তাদের পাঁচ ছেলেমেয়ের পাঁচজনকেই হাফিজে কুরআন বানাতে পারলে আমরা কেনো পারবো না! অন্তত: একটি সন্তানকে হলেও। সন্তান হাফিজ হয়ে নিয়ে তারপর স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পাশ করুক। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার যা খুশি হোক। সমস্যা তো নেই।

যার একটি সন্তান হাফিজ হয়ে যাবে, তাঁর জন্য বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত সুসংবাদ হল, কিয়ামতের দিন একটি হাফিজ ছেলে অথবা মেয়ে তাঁর বাবা-মাসহ এমন দশজনকে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে, যাদের জন্য জাহান্নামের ফায়সালা হয়ে গিয়েছিল। কত বড় ব্যাপার!

শ্রদ্ধেয় আমেরিকান মুসলিম বাবা!
প্রিয় আমেরিকান মুসলিম মা!
‘এই দিন দিন না, আরো দিন আছে’। অনন্ত সেই দিনের কথা ভাবুন। ছেলে-মেয়েকে স্কুলে দিন, ভার্সিটি পাশ করান, পিএইচডি করিয়ে ডক্টর বানান, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু দয়া করে দ্বীন শেখান। তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান, নিজেরাও বাঁচুন।
আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দিন।

[নিউইয়র্ক ভিত্তিক কয়েকটি বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 12 =