যাকাত কেন দেবেন?

যাকাত কেন দেবেন?

এক হাজী সাহের সম্পর্কে জানি, যিনি ২ হাজার কোটি টাকার মালিক। এ তথ্যটা তিনি নিজেই স্বীকার করেন। নামাজ কালাম করেন। পীর সাহেবের মুরিদ। মাদরাসাও প্রতিষ্ঠা করেছেন। যিকির-আযকারেও মাশাআল্লাহ!!

ভাল সব গুণই তার মাঝে বিদ্যমান। কিন্তু হিসেব করে যাকাত দিতে রাজি না। সামান্য কিছু দিয়ে দেন।

ওই হাজী সাহেবের ভাষ্য, ‘আরে নগদ টাকা পয়সা তো নেই জমি বেইচ্যা যাকাত দিমু নাকি?’
আচ্ছা, দুই হাজার কোটিতে কত টাকা যাকাত আসে ?? ৫০ কোটি টাকা আসবে তাই না?

এই ৫০ কোটি টাকা যদি দেওয়া হয় তাহলে কতজন মানুষ স্বাবলম্বী হতে পারবে? তারা সবাই দারিদ্রের কষাঘাত থেকে মুক্তি পাবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মনে করুন, যদি প্রত্যেকে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয় তাহলে ৫০ কোটি টাকা দিয়ে ৫ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
শুধু একজনের যাকাতের টাকা দিয়েই ৫ হাজার মানুষকে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নেওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে।

শুধু একজনের কথা বললাম, এমন ধনী বা তার চেয়ে বেশি ধনী কি বাংলাদেশে আর নেই ? অবশ্যই আছে। আমাদের আশপাশেই আছে। কিন্তু তারা যাকাত দেয় না।
তারা সম্পদ জমা করে রাখছে এই পার্থিব জগতের জন্য। তারা অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করে যাকাত না দিয়ে একসময় মারা যাবে। আর তাদের ছেলেমেয়েরা সেই টাকা পয়সা উড়িয়ে তাদের জন্য কবরে শাস্তির ‘হাদিয়া’ পাঠাবে!

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো এই যাকাত।
যাকাত ছাড়া বাকি চারটি (ঈমান, নামাজ,রোজা,হজ্ব) মোটামুটি অনেকেই পালন করে থাকেন কিন্তু যাকাত দিতে রাজি না।

লামছাম হিসেব করে সামান্য কিছু যাকাত দিয়ে দেন। এতে আপনার যাকাত আদায় হবে না। পরিপূর্ণ সম্পদ হিসেব করে যাকাত দিতে হবে। আপনি নিজেকে মুসলমান দাবি করেন অথচ যে পাঁচটি খুঁটির ওপর ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে তার একটি আপনি মানেন না। যাকাত দেন না।

যাকাত না দেওয়ার শাস্তির বিধান কোরআন হাদীসে রয়েছে। যে সম্পদের মায়া আজ ত্যাগ করতে পারছেন না সেই সম্পদই কাল সাপ,বিচ্ছু হয়ে আপনাকে দংশন করবে।

ইসলামের পাঁচটি রোকনের চারটি আদায়ে নিজের ফায়দা। ঈমান এনেছেন। নামাজ পড়েন। রোজা রাখেন। হজ্ব করেন।

ভাল কথা। সবগুলোতেই আপনার নিজের লাভ। এতে অন্য কারো কোনও উপকার হয় না। শুধু যাকাত আদায়ে অন্যরা উপকৃত হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, কিছু ভাল মানুষ গরিবদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন পলিসি গ্রহণ করেন। এতে অল্প হলেও দরিদ্রদের উপকার হয়। এটা ভাল। কিন্তু যদি যাকাতের প্রতি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা যায় এবং যাদের ওপর যাকাত ওয়াজিব তারা যাকাত দেয় তাহলে অচিরেই দেশ দারিদ্র্যের লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পাবে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তোমরা যে যাকাত দাও, প্রকৃতপক্ষে সেই যাকাত তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে’। (সূরা রুম, আয়াত-৩৯)।

সোজা ভাষায় বলি, যাকাত দিলে আপনার কী কী ফায়দা-
১) ইসলামের একটি মৌলিক বিধান মানলেন।
২) বিধান মেনে ছাওয়াব পেলেন।
৩) শাস্তি থেকে বেঁচে গেলেন।
৪) আপনার দ্বারা অনেক দরিদ্র মানুষ স্বাবলম্বী হলেন, তাদের দোয়া আপনি পেলেন।
৫) মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করলেন।|
৬) যাকাত দিলে সম্পদ বাড়ে

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক: হাসান সিদ্দিকী, সহকারী মুফতী, জামিয়া মদীনাতুল উলূম ভাটারা, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + thirteen =