কুরআনের অর্থ জানার প্রয়োজনীয়তা

কুরআনের অর্থ জানার প্রয়োজনীয়তা

রাসূল (সা.)-এর সময় সবাই কোরআনের অর্থ বুঝতেন, এ জন্য তারাবি নিজে নিজেই পড়া হতো। কিন্তু পরে মুসলমানদের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হজরত ওমর (রা.) সম্মিলিত তারাবির নির্দেশ প্রদান করেন। যাতে কোরআন পড়তে বা বুঝতে না পারার অজুহাতে মানুষ তারাবি ছেড়ে না দেয় এবং কোরআন শিক্ষার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। কিন্তু কোথায় আজ কোরআন শেখান ও বোঝানোর প্রচেষ্টা, তারাবিতে কোনোমতে কোরআন পড়েই শেষ করে দেয় তারাবির দায়িত্ব। ফলে সারা জীবন কোরআন শুনেও মানুষ থাকে কোরআনের নূর থেকে বঞ্চিত, যে উদ্দেশ্যে এ তারাবির আয়োজন, সে উদ্দেশ্যই যদি হারিয়ে যায়, তাহলে এর আবেদন আর কতটুকু থাকবে। আমাদের দেশে এরকম হাজারো মানুষ পাওয়া যাবে, দীর্ঘদিন ধরে যারা তারাবি পড়ে আসছেন কিন্তু কোরআনের অর্থ ও মর্ম বুঝতে চেষ্টা করেননি কখনও। আর মসজিদেও কখনও শুনেননি কোরআনের তাফসির।

মসজিদগুলোতে যদি কোরআন জানানোর ব্যবস্থা না করা হয়, নিজ আগ্রহে ক’জন আর শিখে নেবে। রমজান মাসে আমাদের মসজিদগুলো ভরপুর থাকে মুসল্লিতে। যে কোনো নামাজের পর যদি তারাবির প্রতিদিনের পড়ার বিশেষ আয়াতগুলোর অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির করা হয়, তাহলে কত মানুষের কাছে একসঙ্গে প্রভুর কালামের অর্থ পৌঁছে যাবে। রমজানে এ মজলিসে স্বাদ ও প্রেরণা পেয়ে অনেকেই নিশ্চয় আগ্রহী হবেন কোরআনকে বোঝার জন্য।

নৈতিক অবক্ষয়ের কঠিন এ সময়ে সমাজ সংশোধনে আমরা যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি প্রতি রমজানে এ প্রক্রিয়াটিও হতে পারে সমাজ সংশোধনের অন্যতম পদ্ধতি। আশার কথা হল, ইদানীং অনেক মসজিদে তারাবীর আগে পঠিত আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্তভাবে অর্থ ও তাফসির শোনানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাফেজ মাওলানা হুজাইফা, উত্তরা ১৪নং সেক্টর মসজিদের ইমাম। সুললিত কণ্ঠের অধিকারী এ হাফেজ এ বছর নামাজের আগে ১০ মিনিট সময় নিয়ে আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্ত তাফসির শুরু করেছেন। তার ভাষায় ‘মুসল্লিরা এতে বেশ উৎসাহবোধ করছেন। তৃপ্তি নিয়ে তারা তারাবিতে কোরআন শুনছেন’।

তারাবির পাশাপাশি কোরআনের তাফসির প্রসঙ্গে বললেন, ‘রমজানে এমনিতে মানুষ আমলের প্রতি উৎসুক থাকে, তাই যদি মসজিদগুলোয় এটি চালু করা যায়, তাহলে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়বে। আর এটা তো তেমন কঠিন কাজও নয়। যে মসজিদে এ ধারা চালু আছে, সেখানে অনেক মানুষের মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর আমাদের দেশে যারা তারাবি পড়ান তাদের বড় অংশই আলেম। এ ছাড়া অধিকাংশই শিক্ষানবিস হাফেজ, মাদ্রাসায় তো কোরআনের তরজমা পড়ান হচ্ছে, তাই রমজানে মসজিদে তারাবির পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত তাফসিরের মাধ্যমে নিজের পড়া ও জানার পরিধিও বাড়বে’। উত্তরা ৭নং সেক্টর জামে মসজিদে তারাবির মুসল্লি জুমার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এ মসজিদে তারাবির নামাজ ধীরেসুস্থে আদায় করা হয়। প্রতি চার রাকাত পর ইমাম পঠিত আয়াতগুলোর সারাংশ মুসল্লিদের শুনিয়ে দেন। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লি ছুটে আসেন কোরআনের ভালোবাসায়। দেশের প্রতিটি মসজিদের দ্বায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হলে সমাজের চেহারা দ্রুত পাল্টে যাবে।

যেসব মসজিদে এ ব্যবস্থা চালু নেই, হাফেজ সাহেব উদ্যোগী হয়ে ইমাম ও কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে এ আয়োজন শুরু করা যায়। কোরআনের বরকতে রমজানের যদি এত গুরুত্ব হয়, তাহলে মানুষের মর্যাদা তো আরও বেশি হবে। কোরআনের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার অপার সুযোগ এ রমজানেই। পৃথিবীতে আজ সবকিছুরই উন্নতি ঘটছে, পতন হচ্ছে শুধু মানবিকতার। কোরআনের ঐশী আলোই শুধু ঠেকাতে পারে মানবিকতার এই অধঃপতন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 5 =