মসজিদে যাওয়ার পথেই প্রথমে পাহাড় ধস টের পান নবী হোসেন, অতঃপর

মসজিদে যাওয়ার পথেই প্রথমে পাহাড় ধস টের পান নবী হোসেন, অতঃপর

একজন নবী হোসেন, রাঙ্গামাটি নতুন পাড়া পৌরসভার ৫৫ বছর বয়সী এক বাস ড্রাইভার। রাঙ্গামাটিতে অত্যধিক বৃষ্টির দিন ভোরে নবী হোসেন নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার পথেই প্রথমে পাহাড় ধস টের পান।

পাহাড় ধস হচ্ছে দেখে.. নবী হোসেন মসজিদের মাইকে পাহাড় ধসের কথা বলে সবাইকে সতর্ক করেন। তারপর নেমে পরেন নতুনপাড়া কমিউনিটির ১৮০টি পরিবারকে উদ্ধারে।

অন্য কয়েক সহযোগীকে নিয়ে লাগাতার মাইকিং ও উদ্ধার কাজ করার পর নবী হোসেন নিজের ঘরে ফিরে আসেন। ঘরে এসেই পরিবারের সবাইকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যেতে বলে ঘরের লাঘোয়া পাহাড় থেকে ধাবমান পানির স্রোত সরাতে ঘরের পাশে নালা করতে কোদাল হাতে নেমে পরেন। এরই মাঝে নবী হোসেন ও তার ঘরের উপর পার্শ্ববর্তী পাহাড় ধসে পরে। পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর পাশাপাশি নবী হোসেনও গুরুতর আহত হন।

সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নবী হোসেন। পুরো একটি পাড়ার শতশত মানুষকে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজেই মারা গেলেন নবী হোসেন।

নবী হোসেনকে নিয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের ধান্দা হবে না। তাই গ্রাম বাংলার এই সকল ক্ষুদ্র কিন্তু নিঃস্বার্থ নবী হোসেনদের কেউ চিনবে না। নবী হোসেনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি.. আল্লাহ নিশ্চয় নিঃস্বার্থ ও পরোপকারীদের জান্নাতে স্থান দেন।

লেখক: ইলিয়াস হোসেন, সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − five =