অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিষ্ঠাবান হতে হবে

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিষ্ঠাবান হতে হবে

বাংলাদেশ মসজিদ মিশন আয়োজিত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, ইসলামী বিধানের পরিপূর্ণ চর্চা ও অনুশীলন ছাড়া জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

তাই পবিত্র রমযান মাসে সিয়ামের আধ্যাত্মিক শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে নিষ্ঠাবান হতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, কুরআনের ফরয বিধান জিহাদকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে মিলানোর চক্রান্ত হচ্ছে। তবে এই চক্রান্ত নতুন নয়। দেশের ইসলামপ্রিয় সকল মুসলমান ও উলামা মাশায়েখবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই চক্তান্তের মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বুধবার সকালে তোপখানা রোডস্থ বিএমএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সিয়ামের ভূমিকা শীর্ষক উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন বক্তাগণ উপরোক্ত কথা বলেন।

মসজিদ মিশনের সহ-সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. ইয়াহইয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মাদ আব্দুর রউফ।

বিশেষ অতিথি নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, দিক নিদের্শনামূলক বক্তব্য রাখেন মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, সেন্ট্রাল মসজিদের খতীব প্রফেসর মাওলানা রফিকুর রহমান মাদানী, ন্যাশনাল ইমাম সমাজের সভাপতি আন্তর্জাতিক ক্বারী হাফেজ আবুল হোসাইন, মীরের সরাই পীর মাওলানা আব্দুল মোমেন নাসেরী, ছরছীনার পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, টেকেরহাটের পীর মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, জমিয়তুল মুফাসসিরিনের সভাপতি মাওলানা কে. এম. আব্দুস সোবহান, জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা লুৎফর রহমান, নেজামে ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি হারুন বিন ইজহার, ইসলামী জনতা সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাদরাসা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আলাউদ্দীন, কুরআন সুন্নাহ পরিষদের সভাপতি মাওলানা ফখরুদ্দীন, মুফাসসির পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক নুরুল আমীন, মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দীন হেলালী, বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপক শায়খ সাদেকুল ইসলাম আযহারী, বিশিষ্ট কলামিষ্ট মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কাহহার, মুফতি এনামুল হক, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব মাওলানা ফয়জুল্লাহ আশরাফী, বিশিষ্ট ইসলামী শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মানসুরুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, হাফেজ মাওলানা ফারুক হোসাইন, মাওলানা খন্দকার মাহবুবুল হক, ড. মীম আতিকুল্লাহ, অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, মুফাসসির কামরুল হাসান, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ আযহারী, মুহাদ্দিস আবুল হাসান, মুফতি তাজুল ইসলামী কাওসারী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন, ইসলাম কেবল মুসলিমদের জন্য আসেনি, সবার জন্য এসেছে। একইভাবে গোসলের নিয়ম ও বিধান সবার জন্য। ইসলামের বয়স সৃষ্টির সূচনা থেকে। অথচ ইসলামের দুশমনরা অবুঝের মতো ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র মশগুল থাকে।

তিনি বলেন, বুদ্ধিভিত্তিক কর্মতৎপরতা ও তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপনে মুসলিম উম্মাহকে আরো বেশী অভ্যস্ত হতে হবে। সিয়ামের আধ্যাত্মিক শিক্ষা কাজে লাগাতে পারলে মন-মগজ, মনন সবই পরিশুদ্ধ হবে। সমাজ থেকে অপরাধ, অন্যায় ও কুসংস্কার দূর করতে আমাদের সকলকে আন্তরিক হতে হবে। আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য কোনো বিধানে মুক্তি ও কল্যাণ নিহিত নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন বলেন ফান্ডামেন্টালিজম শব্দ বলে মুসলিমদের গালি দেয়া হয়। অনুরূপভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে গালিস্বরূপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বযুদ্ধগুলোতে বর্বর তান্ডব কি মুসলিমরা করেছিল? গবেষণা, শিক্ষা বিলাসিতা ও পরনির্ভরশীলতার কারণেই বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ আজ মার খাচ্ছে। দুনিয়াব্যাপী ৬টি ইহুদী সংগঠন মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপ্রচার চালিয়েই যাচ্ছে। তাই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের সকলকে মজবুত অবস্থান নেওয়ার এখনি সময়।

নয়াদিগন্ত সম্পাদক বলেন, হক ও বাতিলের পার্থক্য অনুধাবন করতে না পারলে সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা সম্ভব নয়।

মসজিদ মিশনের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন, কুরআনের বিধান জিহাদকে সন্ত্রাসের সাথে মিলিয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। অথচ সিয়ামের ন্যায় জিহাদও ফরয। চক্রান্ত করে ষড়যন্ত্রকারীরা ইসলামী জিহাদকে কলুষিত করার পাঁয়তারা করে বৃটিশদের মতো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে জিহাদ অধ্যায় বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল বলেন, কোনো মুসলমান বিন্দুমাত্র ঈমান থাকে তা বরদাশ করতে পারে না। সকল ধরনের সন্ত্রাস, অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে ইমাম খতীব ও উলামা মাশায়েখদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী বিধানের সঠিক চর্চা ও অনুশীলন ছাড়া অপরাধমুক্ত সমাজ চিন্তা করা যায় না। সকল মসজিদ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সকল ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ আওয়াজ তুলতে হবে।

ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন ইসলামের মূল শিক্ষাই হলো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ নিশ্চিত করা। সন্ত্রাস করলে সে ঈমাদার দাবি করার অধিকার হারিয়ে ফেলে। মহানবী (সা.) বলেছেন ,“যার হাত ও জবান থেকে অন্য সকলে নিরাপদ থাকে সেই একমাত্র মুসলিম”। অতএব জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় তথাকথিত গোমরাহ, ভ্রান্ত ও অবুঝশ্রেণীর নামধারী মুসলমানদের ফাঁদে কোনোভাবেই পা দেওয়া যাবে না।

ভ্রান্ত জঙ্গিরা ইসলামের দুশমনদের পৃষ্টপোষকতায় ইসলামী জিহাদকে অপব্যাখ্যা করে সন্ত্রাসী কর্মতৎপরতা চালিয়ে ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম উম্মাহকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের এ অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ইমাম খতীব, উলামা-মাশায়েখদের অতন্দ্রপ্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী বলেন সন্ত্রাস করে, মারামারি করে কোনো একটি মাদরাসা মসজিদ বন্ধ হয়নি। মসজিদের নগরীতে মন্দিরের বাইরে মূর্তি স্থাপন চলবে না। হাইকোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপনকারীদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

মাওলানা আবু তাহের জিহাদী বলেন, ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে দেওবন্দের শায়খ বলেছিলেন দুনিয়ায় বিশৃংখলার কারণ ৩টি। কুরআন ছেড়ে দেওয়া, ঐক্য ছেড়ে দেওয়া ও জনসাধরণের সাথে সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়া। ইমামগণ উদ্যোগ নিলেই এ তিনটি সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

কাজী জালাল উদ্দীন বলেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরাই অপরাপর সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে।

ড. মীম আতিকুল্লাহ বলেন, কুরআন চর্চা বৃদ্ধি ও ইখতেলাফী বিষয়ে সকলকে উদার হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. ইয়াহইয়ার রহমানের বলেন, রোজা আমাদের সত্যিকার সোনার মানুষে পরিণত করে।

ইফতার মাহফিলে পাহাড়ী ঢলে নিহত আহতদের জন্য দোয়া এবং দেশ ও জাতি ও মুসলিম উম্মার জন্য সবাইকে নিয়ে বিশেষ দোয়া করেন।

উল্লেখ্য যে বাছাইকৃত পঁচশতাধিক ইমাম খতীব ও বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + 9 =