সিয়াম একটি পর্যালোচনা

সিয়াম একটি পর্যালোচনা

সিয়াম ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। এটি একটি গোপনীয় ইবাদত। যা বান্দাহ-আল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ। যার প্রতিদান সাইমকে (রোজাদার) আল্লাহ নিজে দেবেন। তাঁর জন্য জান্নাতের একটি দরজাও থাকবে নির্দিষ্ট।

কিন্তু কোন রোজাদারকে?

যিনি ( সাইম) বলেছেন ان صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين

আজ কারো কারো জীবনে রমজান এসেছে ২০/৩০/৪০/৫০ বার। কিন্তু রোজার প্রকৃত সবক নেয়া সম্ভব হয়নি।এটি যে মহান রবের তরফ হতে বান্দাহর জন্য আসমানী ট্রনিং এবং বিশেষ অফার, তা কয়জনই বা জানে? জানে শুধু উপোস থাকা।

মানুষের মধ্যে দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে,একটি মনুষ্যত্ব অপরটি পশুত্ব। পশুত্বকে পুড়িয়ে মনুষ্যত্বকে বিজয়ী করার জন্যই এ মাসের নামও রাখা হয়েছে সাহরু রমাদান (شهر رمضان)।

পানাহারের সম্পর্ক পেটের সাথে, সহবাসের সম্পর্ক গোপনাঙ্গের সাথে। শয়তানও মানুষের নফসের উপর ভর করে এই দুঅঙ্গের মাধ্যমে যাবতীয় অপকর্মে লিপ্ত করায়। পৃথিবীতে যাবতীয় পাপাচারের মূল বাহন হলো এই দুই অঙ্গ। আর এই সিয়াম দুইকেই নিয়ন্ত্রণ রাখে।

কিন্তু যে রোযা জমির আইল ঠেলা হতে বিরত রাখতে পারেনি। পারেনি দুধ বিক্রেতাকে দুধে পানি দেয়া থেকে বারন করতে। ঠিকাদারকে রাস্তা তৈরির টাকা আত্মসাৎ করা হতে বিরত রাখতে পারেনি। বিচারককে আল্লাহর বিধানে বিচার করতে শিখায়নি। চেয়ারম্যানকে গম/চাল আত্নসাৎ হতে মুক্ত রাখতে পারেনি। শাসককে আল্লাহর আইনে দেশ শাসনে বাধ্য করতে পারেনি।

তাহলে এটাকে রোযা( বিরত থাকা) বলে লাভ কোথায়?

অথচ রাসুল( স)বলেছেন, من لم يدع قول الزوروالعمل به فلبس لله حاجة في ان يدع طعامه وشرابه

সাহাবায়ে কেরাম মাত্র ১৬টি রোযা রেখে নিয়েছেন বদর যুদ্ধের প্রস্তুতি।হাতে ধারন করে নিয়েছেন মক্কা বিজয়ের কালেমা খচিত পতাকা।আসুন আমরা এই বিজয়ের মাসে ও কোরআন নাযিলের মাসে সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে তাকওয়ার সকল গুনাবলী অর্জন করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 2 =