নতুন সাজে ময়মনসিংহ বড় মসজিদ

নতুন সাজে ময়মনসিংহ বড় মসজিদ

ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ। রঙের তুলির আচড়ে নতুন সাজ পেয়েছে প্রায় পৌনে দুইশ’ বছর আগে নির্মিত এ প্রাচীন মসজিদ।

মসজিদের প্রবেশ গেট থেকে শুরু করে ভেতরে-বাইরে নান্দনিকতার ছোঁয়া।

এ মসজিদেই জেলার সবচেয়ে বড় তারাবির জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে নামাজ আদায় করছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মুসল্লি।

মসজিদের মোয়াজ্জিন মাওলানা আবদুস সামাদ জানান, ময়মনসিংহের বৃহৎ ও ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পথচলা শুরু হয় নগরীর চকবাজার নামক স্থানে প্রায় পৌনে দুইশ’ বছর আগে।

ওই সময়কার জমিদারের মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় বিশিষ্ট মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের জন্য প্রথমে নির্মাণ করেন টিনের ছাপড়া মসজিদ।

mymansingha-masjidকালের কপোলতলে অনেক বছর পেরিয়ে সমান ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বহন করছে ময়মনসিংহ মসজিদ। প্রায় ১.৯ একর জমির ওপর নির্মিত এ মসজিদটি ত্রিতল ভবনের।

প্রতি তলায় রয়েছে ১৮টি কাতার। প্রায় ৮ হাজার মানুষ একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।

দেখা গেছে, দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের গম্বুজ, সমতল ছাদ এবং ছাদের চারদিকে রয়েছে চারটি মিনার। দু’টি মিনার আবার ১২৫ ফুট লম্বা আকৃতির।

এসব গম্বুজ ও মিনার চীনা মাটির বিচিত্র রঙের বাসন ভাঙা ও কাচঁ দিয়ে কারুকার্য খচিত।

ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ।

এর মধ্যে অনন্য স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ ময়মনসিংহের এ বড় মসজিদ।

এ মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবির নামাজের জন্য রয়েছে এয়ার কন্ডিশনের (এসি) ব্যবস্থা। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে তিনটি জেনারেটর। নির্বিঘ্নে এখানে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিরা আসবেন দলে দলে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের গ্রিল, অজুখানার রেলিং, মসজিদের দক্ষিণ পাশের বাগানের গ্রিলে নতুন রঙ করা হয়েছে। ছাদের রেলিংও অনেকটাই গম্বুজের আদলে ঢেউ খেলানো। অজুখানার দু’টি পানির হাউজের পানিও পরিবর্তন করা হয়েছে।

গোটা মসজিদের মেঝে মূল্যবান মোজাইক পাথর। শ্বেত-শুভ্র মনোরম টাইলসের দেয়াল, আধুনিক শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা মুসল্লিদের মনে ঈমানি চেতনা জাগ্রত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + nine =