ইফতারে খেজুর কেন?

ইফতারে খেজুর কেন?

রমজান মাস চলছে। সারা দিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পর কিছু মুখে দেওয়া। রমজান মাসের এটাই মুসলিমদের ঐতিহ্য বা রেওয়াজ। যুগ যুগ ধরে দেশে দেশে রমজানের ইফতারে খেজুর খাওয়ার রীতি।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনি রোজাদারকে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি খেজুর পাবে সে যেন তা দিয়ে ইফতার করে। আর যদি না পায়, তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করবে কেননা তা অধিক পরিষ্কারক ও পবিত্র। -সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিজি

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: খেজুরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণে তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আইরন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান যা সুস্বাস্থের জন্য অতি দরকারি।

কেন সবাই খেজুর খায় ইফতারের সময়? এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের গবেষণা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। যা হয়ত সবাই জানেন না। দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট লভনীত বাত্রা জানাচ্ছেন, খেজুর খাওয়ার প্রকৃত কারণ।

এনার্জি

খেজুরের পুষ্টিগুণ প্রচুর। সুগারের পরিমাণ এত বেশি থাকে খেজুরে যে এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম ও সুক্রোজ থাকে। যে কারণে খেজুর খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়। সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে ক্লান্তি আসে, তা দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে খেজুর।

অ্যাসিডিটি

অনেকের অ্যাসিডিটি সমস্যা রয়েছে। যার কারণে অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি হয়। খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বশে রেখে অস্বস্তি কমায়।

বেশি খাওয়া

সারা দিন না খেয়ে থাকলে খাওয়ার সময় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এর মধ্যে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট হজম হতে বেশি সময় নেয়। ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা লাগে। তাই বেশি খাওয়ার আগেই পেট ভরে যায়।

হজম

অনেক ক্ষণ না খেয়ে থাকলে তা পৌষ্টিকতন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। খেজুর শরীরে উত্‌সেচক ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে হজম ভাল হয়।

ডিটক্সিফিকেশন

রোজার ফলে শরীরে যে খারাপ কোলেস্টেরল জমা হয় তা ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে খেজুর।

এ ছাড়াও খেজুরে আরও যে সব উপকারিতা আছে-
-স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
-হৃদরোগীদের জন্য খেজুর বেশ উপকারী।
-খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী।
-হজমশক্তি বর্ধক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক।
-খেজুর রুচি বাড়ায়।
-খেজুর ত্বক ভালো রাখে।
-খেজুর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।
-খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
-পক্ষাঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী।
-খেজুর ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে।
-খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে। প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।
-খেজুরে কোলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়।
-নারীদের শ্বেতপ্রদর ও শিশুর রিকেট নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা অনেক।
-খেজুর পাতলা পায়খানা বন্ধ করে।
-খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি এবং এজমার জন্য উপকারী।
-উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাটসম্পন্ন খেজুর জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।

-খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে।
-যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী।
-খেজুর লৌহসমৃদ্ধ ফল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রক্তে লৌহিত কণিকার প্রধান উপাদানের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। খেজুর লৌহসমৃদ্ধ বলে এই রক্তশূন্যতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 3 =