আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ-ক্বারিদের ভাবনা

আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ-ক্বারিদের ভাবনা

সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৩টি দেশের ২৭৬জন হাফেজ ও ক্বারি এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে বাংলাদেশের ৬জন প্রতিযোগী ছিলেন।

আর বিচারক হিসেবে ছিলেন বিভিন্ন দেশের ১৬জন বিখ্যাত ক্বারি ও হাফেজ। এছাড়া ২য়বারের মত অন্ধ হাফেজদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বাংলাদেশি হাফেজ ও ক্বারিদের সাথে ইরান সফরসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।

জনাব হাফেজ কলিম সিদ্দিকী আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি- ইরানের ৩৪তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা আপনার কাছে কেমন লাগল।

অন্ধ হাফেজ করিম সিদ্দিকি: আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভাল লেগেছে। আল্লাহ আমার চোখ দেননি, কিন্তু আমার অন্তর-চক্ষু দিয়ে যা উপলব্ধি করেছি তাতে আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। কুরাআন তেলাওয়াত আমার কাছে ভীষণ ভাল লেগেছে। শ্রোতারা যখন কুরআন শুনে অঝোরে কাঁদতে থাকে তখন সেই শব্দ শুনে আমার অন্তরটাও কেঁদে ওঠে।

জনাব,অন্ধ হাফেজ ও ক্বারি আবদুল করিম-আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি- আপনি কোন্‌ বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন এবং কোনো স্থান পেয়েছেন কি না?

অন্ধ হাফেজ ক্বারি আব্দুল করিম: আমি অন্ধদের কেরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ৬ষ্ট স্থান অধিকার করেছি।

কুরআন প্রতিযোগিতা কেমন লাগল আপনার কাছে?

অন্ধ হাফেজ ক্বারি আব্দুল করিম: আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভাল লেগেছে। আল্লাহ আমার চোখ দেননি, তবে আমার অন্তর চক্ষু দিয়ে যা উপলব্ধি করেছি তা আমার খুবই ভাল লেগেছে। কুরআন তেলাওয়াত আমার কাছে ভীষণ ভাল লেগেছে। শ্রোতাদেরও অনেক ভাল লেগেছে।

এখানে কুরআন চর্চার প্রবণতা কেমন দেখলেন আপনি?

অন্ধ হাফেজ ক্বারি আব্দুল করিম: অনেক সুন্দর বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত শুনতে খুব ভাল লাগল। ছোট-বড়,নারী-পুরুষ সবাই কুরআন শুনছে ও পাঠ করছে এটা আমার জন্য আনন্দদায়ক।

তাওহীদ বিন আলী- আপনি এ প্রতিযোগিতার কোন বিভাগে অংশ নিয়েছেন? এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হাফেজ ও ক্বারিদের সম্মান ও মর্যাদা কেমন দেখলেন আপনি?

তওহিদ বিন আলী: তেলাওয়াত বিভাগে অংশ নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভাল লেগেছে। আমি ফাইনাল রাউন্ডে উঠেছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাকতে পারিনি। ভালই দেখলাম। আলহামদুলিল্লাহ যথেষ্ট ভাল।

ইরানে কুরআন চর্চার প্রবণতা কেমন দেখলেন?

তওহিদ বিন আলী: নিকট থেকে যতটুকু দেখলাম খুব ভাল লাগল। মিশর ও ইরানকে কুরআন চর্চার দিক থেকে একই শ্রেণির বলে মনে হয়েছে।

জনাব,হাফেজ ও ক্বারি মোখলেছুর রহমান-আপনার কাছে জানতে চাইব- আপনি প্রতিযোগিতার কোন্‌ বিভাগে অংশ নিয়েছেন। কুরআন প্রতিযোগিতার এ আয়োজন আপনার কাছে কেমন লাগল?

ক্বারি মোখলেসুর রহমান: আমি বাংলাদেশ থেকে করিম সিদ্দিকিকে নিয়ে কুরআন প্রতিযোগিতায় অন্ধ হাফেজদের গ্রুপে অংশগ্রহণ করতে এসেছি। আমি মনে করি অনেক সুন্দর হয়েছে। আমি যখন কুরআন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে যাই তখন মনে হয় জান্নাতের পাখিরা আসমান দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। আমি অনেক শান্তি পাই।

ইরানে কুরআনের হাফেজ-কারীদের কেমন সম্মান-মর্যাদা দেয়া হয়?

ক্বারি মোখলেসুর রহমান: আমি মনে করি, সারা পৃথিবীর উচিত ইরানের কেরাতকে অনুসরণ করা। ইরানিদের কুরআন তেলাওয়াত, মাখরাজ-উচ্চারণ সবই আমাদের অনুসরণ করা উচিত। ইরানের প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা খুবই সুন্দর। বাংলাদেশের অনুসরণ করা উচিৎ।

জনাব,নেসার আহমেদ আন নাসিরি-আপনি কুরআন প্রতিযোগিতায় কী হিসেবে এসেছেন?

নেসার আহমেদ: আমি অন্ধ হাফেজ আব্দুল করিমের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এসেছি। এ প্রতিযোগিতায় সে ভালই করেছে।

ইরানের হাফেজ ও ক্বারিদের তেলাওয়াত আপনার কাছে কেমন লাগল?

নেসার আহমেদ আন নাসিরি: আলহামদুলিল্লাহ। ইরানের ক্বারিরা আন্তর্জাতিক মানের কেরাত করে থাকে। অনেক সুন্দর তেলাওয়াত করে।

ইরানে কুরআন চর্চার প্রবণতা কেমন দেখলেন আপনি?

নেসার আহমেদ আন নাসিরি: আমি মনে করি, অনেক বেশি কুরআন ইরানে চর্চা হয় এখানে। ইরানে কুরআনের প্রসার ও প্রচার অনেক বেশি।

জ্বি জনাব নেসার আহমেদ আন নাসিরি- ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনি (র.) বলেছেন,যারা শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে,তারা শিয়াও নয়,সুন্নিও নয়; বরং তারা হলো সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল। তো মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আপনি কিছু বলুন।

নেসার আহমেদ আন নাসিরি: দেখুন, আল্লাহতায়ালা সুরা ইমরানের ১০৩ নাম্বার আয়াতে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না।’ আলহামদুলিল্লাহ, ইরানের সবকিছু আমার কাছে ভাল লেগেছে। দোয়াকরি, আল্লাহপাক ইরানকে কবুল করে নিক। আমরা চাই সকল শিয়া-সুন্নি এক হয়ে কুরআনের কাজ করবে। মুসলমান ভাই একে অপরের পাশে দাঁড়াবে। একে অন্যের রক্ত দেখলে কাছে আসবে। এটাই আমরা চাই। আল্লাহতায়ালা কুরআনেও বলেছেন: মুসলমানরা একে অপরের ভাই। আমরা দুনিয়াতে এভাবে বেচে থাকতে চাই। আমি সবশেষে পবিত্র কুরআনের ওই বক্তব্যটি তুলে ধরতে চাই ‘ইন্নামাল মোমেনিনা ইখওয়া অর্থাৎ’ নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পরের ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =