কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি বহাল

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি বহাল

কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ রিট আবেদন খারিজের মধ্য দিয়ে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো.আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

গত ১৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট জারি করে। এই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. ফজলুল হক নামের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এক অনুসারী হাইকোর্টে রিট করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন,আমাদের প্রাপ্য মান নিয়ে হিংসা ও বিদ্বেষের আগুন জ্বলছিল একটি চক্র। আলহামদুলিল্লাহ,তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

তিনি বলেন, কুরআনি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কারো ফুৎকারে নিভে যাবে না যুগ যুগ ধরে প্রজ্বলিত এই আলোকমশাল।

গত ১৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট জারি করে। এই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. ফজলুল হক নামের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এক অনুসারী হাইকোর্টে রিট করেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রির মান বাস্তবায়নে নিয়োজিত কমিটি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবেন না। এই কমিটির তিনটি কার্যপরিধি ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এই কমিটি যেসব মাদরাসাকে নিবন্ধন দেবে কেবল তারাই দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির সমমান পাবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সমমান দেয়ার লক্ষ্যে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি (পদাধিকার বলে) ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটিতে সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

এ কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলে বিবেচিত হবে। কমিটির নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বলে বিবেচিত হবে। এ কমিটির অধীনে তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হবে।

কমিটি সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়গুলো অবহিত করবে কমিটি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ কমিটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + three =