পশ্চিমা নারীরা কেন ইসলাম গ্রহণ করছেন?

পশ্চিমা নারীরা কেন ইসলাম গ্রহণ করছেন?

‘তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্যদ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সকল দ্বীনের উপর তা বিজয়ী করে দেন। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। (সূরা ছফ-৮-৯)’

ইসলামকে তার উৎসেই শেষ করে দেয়ার অপচেষ্টা ছিল। এজন্য লোভনীয় প্রস্তাব থেকে শুরু করে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.) কে হত্যার অপচেষ্টা পর্যন্ত হয়েছিল। এর পাশাপাশি অমুসলিমদের সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র ছিল অপপ্রচার। তারা মুহাম্মদ (সা.) কে পাগল পর্যন্ত সাব্যস্ত করতেও সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। এমনকি তারা রাসূল (সা.) চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। আর এসব কিছুর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে বিতর্কিত করা এবং আল্লাহর একত্ববাদী এই ধর্মের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়া। কিন্তু আল্লাহর কৌশলের কাছে কাফির-মুশরিকদের সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। মহান আল্লাহ তা’য়ালা তার মনোনীত ইসলামকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং বিজয়ী করেছেন।

ইসলাম বিদ্বেষীদের সেই অপপ্রচারের ধারা ১৪শ’ বছর ধরে অব্যাহত আছে। দিনে দিনে তারা নতুন মাত্রায় এই অপপ্রচার নিয়ে হাজির হয়েছেন। পুঁজিবাদী কর্পোরেট যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের অপপ্রচারের বড় হাতিয়ার নারী ইস্যু। তাদের অপপ্রচার- ইসলাম নারীর অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে, নারীকে চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রেখেছে। ইসলামে নারীকে দেয়া মর্যাদার বিপরীতে তারা ভোগবাদী ব্যবস্থায় নারীকে মনোরঞ্জনের জন্য ব্যবহারের বিষয়টি দাঁড় করিয়েছে। একাজে তারা কথিত নারীবাদীদের পেছনে অর্থলগ্নি করেছে।

কিন্তু ইসলাম-বিদ্বেষীদের সব ধরনের অপচেষ্টা সত্ত্বেও ইসলামের চিরভাস্মর নূর উদ্ভাসিত হচ্ছে। খোদ পশ্চিমা ভোগবাদী বিশ্বে নারীদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে ইসলাম। সৃষ্টিকর্তা মনোনীত এই ধর্মকে দানবীয় আকারে হাজির করার ৯/১১ পরিকল্পনা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধের নামের মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়িত করা, কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে ইসলামি খিলাফত ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করা এবং আইএসের কর্মকাণ্ড দিয়ে ইসলামকে নারীর অধিকারহরণকারী হিসেবে চিত্রায়িত করার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসবের মধ্যেও পশ্চিমা বিশ্বে নারীদের ইসলাম গ্রহণের বিস্ময়কর পরিসংখ্যান এক স্থায়ী বিজয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ইউকে সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির এক জরিপের বরাত দিয়ে জানায়, ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এক দশকে বৃটেনে ১ লাখ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে যাদের ৭৫ হাজারই ছিলেন নারী। কেবল ২০১০ সালে ৫ হাজার ২০০ জন বৃটিশ ইসলাম গ্রহণ করেন যাদের অর্ধেকই শ্বেতাঙ্গ এবং ৭৫ ভাগই নারী। এছাড়া প্রতিবছর আমেরিকায় ৩০ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন যাদের অধিকাংশই নারী।

এসব চিত্র থেকেই বুঝা যায়, পশ্চিমা বিশ্বে নারীদের কাছে ইসলাম কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বৈরী পরিস্থিতিতেও কেন পশ্চিমা নারীরা ইসলাম গ্রহণ করছেন?
পশ্চিমা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশী ইসলামের প্রতিকূলে। হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীরা রাস্তাঘাটে হামলা শিকার হচ্ছেন, লাঞ্ছিত হচ্ছেন। তবুও থেমে নেই আল্লাহ প্রদত্ত নূর- ইসলামের অগ্রযাত্রা। কেন পশ্চিমা নারীরা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন। এখানে আপাতত দুটি বিষয়ের আলোচনা হবে।

এক. অন্তঃসারশূন্য ভোগবাদের উপলব্ধি: পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা যখনই বুঝতে পারছেন- পুঁজিবাদী কর্পোরেট ব্যবস্থা তাদেরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখছে, তখনই তারা সেটা পরিত্যাগ করে ইসলামের মর্যাদাশীল জীবন গ্রহণ করছেন। ইসলাম গ্রহণকারী লন্ডনের বাসিন্দা টিভি উপস্থাপক ও লেখক ক্রিস্টেইন ব্যাকার (৪৫) বলেন, ‘আমি বলি- ইসলাম তোমার নিজের এবং তোমার নারীত্বের জন্য মর্যাদার এবং সম্মানের। আলাপ-আলোচনার সময় মুসলিম পুরুষরা সম্মান দিয়ে কথা বলে। ইসলামে নারীকে মায়ের সম্মানে দেখা হয়। নারীকে সব করতে হবে- ইসলামে এমনটা চাওয়া হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষে ইসলাম গ্রহণ করা সাসকিয়া বলেন,‘ইসলামে নারীদের সম্মান দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে যৌন মনোরঞ্জনের বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। পশ্চিমা নারীদের বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু একজন মুসলিম নারীকে মানুষ হিসেবেই তার সার্বিক মূল্যায়ন হয়।আমি পর্দায় স্বাধীনতা খুঁজে পাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি মেজাজ স্থির রাখতে পারি না যখন কোনো পুরুষ কোনো মুসলিম নারীকে বেপর্দা হতে বলে। সে কার স্বার্থে এটা চায়?’

দুই. পারিবারিক মূল্যবোধ: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ইসলাম গ্রহণ করেন সাসকিয়া। তিনি বলেন, ‘মুসলিম পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ইসলামে মায়ের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তাকে ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী করেছে। বাইবেলে নারী-পুরুষের ভূমিকা অস্পষ্ট। কিন্তু আমি নিশ্চয়তা চাই, ইসলাম আমাকে সেটা দিয়েছে।’

মুসলিম পরিবারে মায়েদের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এমনকি কোনো বিষয়ে আমি যদি আমার স্বামীকে চাপ দিতে চাই, তখন আমি বিষয়টি আমার শাশুড়িকে বলি। তখন এটা কাজে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × five =