পটিয়া জামিয়ার প্রধানের চির বিদায়, একটি শোক ও প্রতিবাদ

পটিয়া জামিয়ার প্রধানের চির বিদায়, একটি শোক ও প্রতিবাদ

বিশ্ব বরেণ্য বিদগ্ধ আলেম, পটিয়া জামিয়ার প্রধান, মুফতী, লক্ষ লক্ষ উলামায়ে কেরামের দরদী অভিভাবক,আল্লামা মুফতী মোজাফফর আহমেদ রহ. এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চিরদিনের জন্য মহান প্রভূর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। তার এই মহাপ্রয়াণে, বাংলাদেশ সহ গোটা মুসলিম বিশ্বে এক মর্মান্তিক শোকের ছায়া নেমে আসে। আলেম উলামা তৌহিদী জনতা,শোকে বিহ্বল হয়ে নীরব কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, সদালাপী, নিভৃতচারী প্রচারবিমূখ এই মহা মনিষী মানুষের হৃদয়ে যে কতোটা গভীর যায়গাজুড়ে ছিলেন তা প্রত্যন্ত মফস্বলে সারাদেশ থেকে ছুটে আসা মানুষের ঢল, জানাজার উপস্থিতিতে সহজেই অনুমেয়।

যে বিষয় টি আমাকে গভীর ভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে, তা হলো-
এতো বিশাল মাপের একজন ব্যাক্তিত্ব্যের অন্তর্ধান, এতো মানুষের মর্মবেদনা, শোক, আবেঘ, মিডিয়াতে কোন গুরুত্বই পেলো না। আমি কয়েকটা পত্রিকা পড়লাম, সেখানে নেই, থাকলেও হয়তো চোখে পড়ার মতো গুরত্বের সাথে ছিলো না ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে তো পাত্তাই নেই, শুধু ফেসবুকে আমাদের ঘরানার লোকদের টাইমলাইনে আছে।

এই চরম অনাকাংখিত, ভ্রস্টতা, নির্লজ্জতা, কেমন করে মেনে নেই, নজু ফজু আবুলদের নিয়ে মিডিয়াজুড়ে নির্লজ্জ মাতামাতি হয়, দুইশ লোকের জানাজা লাইভ সম্প্রচার হয়,পত্রিকায় রঙিন বক্স নিউজ হয়, আলেমদের ব্যাপারে কেন এই অমর্যাদা,উদাসীনতা, কেন এই অবমূল্যাণ?
এদেশীয় পত্রিকা,টি ভি চ্যানেল আমাদের টাকায় চলে, আমরা এদেশীয় বৈধ নাগরিক,আমাদের আবেঘ কে ভালোবাসা কে ওরা পাত্তা দেবে না মুল্যায়ণ করবে না, তা আমরা কেবল দেখেই যাবো?

শায়খুলহাদীস,রহ.আমিনী রহ.খতীব সা.রহ. মহিউদ্দীন খান রহ.বেফাক মহাসচিব সহ পূর্ববর্তী আকাবীরগণের ইন্তেকালের সময়ও অনূরুপ ঘটনাই ঘটেছে, আমদের খবর, আমাদের, আবেগ, আমাদের ভালোবাসা, কোথাও কোন কোন গুরুত্ব পাচৃছে না। আমাদের দেশে আমাদের জলবায়ু তে আমাদেরই টাকা পয়শায় লালিত মিডিয়া আমদের অবজ্ঞা করে আসছে দম্ভভরে, এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না, এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই, এবং বিকল্প মিডিয়াশক্তি গড়ে তোলার আহবান জানাই।

পরিশেষে মরহুমের জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতের উচ্চ মাক্বাম প্রার্থনা করছি, এবং মরহুমের পরিবার কে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি, আল্লাহ সকল কে সবরে জামীল এখতেয়ার করার তাওফীক দান করুন। এবং আমাদের সকল কে কার্যকর মুসলিমজাতির কল্যাণকামী মিডিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার অনুভূতি জাগ্রত করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × four =