কওমি স্বীকৃতি: আস্থা রাখতে পারছে না ১৪ লাখ শিক্ষার্থী!

কওমি স্বীকৃতি: আস্থা রাখতে পারছে না ১৪ লাখ শিক্ষার্থী!

আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ বোর্ডের পরীক্ষার্থীরাও আপাতত পাচ্ছে না মাস্টার্সের সমমান। পূর্বেকার শিক্ষার্থীদের মতো এবারের পরীক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার উপর-সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। কেননা দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাসটার্স সমমান ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও সরকারিভাবে আইন পাশ না হওয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত!

দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্সের মান দিতে কওমি বিশ্ববিদ্যালয় লাগবে অথবা ‘আল-হাইয়াতুল উলিয়া বোর্ডকে’ সরকারিভাবে আইন প্রনয়ণ করে ইউজিসির ক্ষমতা দিতে হবে। দাওয়ার সনদকে মাস্টার্সের মান উল্লিখিত দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে কোনটির অধীনে দেয়া হচ্ছে এব্যাপারে সরকারি আইন পাশ না হওয়া পর্যন্ত স্বীকৃতির ভবিষ্যত অনিশ্চিত ।

যদি চলতি সংসদ অধিবেশনে এব্যাপারে কোন আইন পাশ না হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় কওমি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে স্বপ্নভঙ্গের পথটি নতুন করে খোলা হয়েছে বলে মনে করে ‘দিআইটি’। ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানন্নোয়নে কাজ করে ‘দি ইসলামিক এডুকেশনাল ডেপলাপমেন্ট ট্রাস্ট’ (দিআইটি) ২০১৭ এর প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ।

দিআইটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়ছে- এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা যে ত্রিদ্বারায় বিভক্ত তা স্বাধীনতা পূর্বাপর স্বীকৃতি একটি বিষয়। সুতরাং কওমি শিক্ষাদ্বারার সর্বোচ্চ ক্লাস ‘দাওয়ারায়ে হাদীসের’ সনদকে ‘ইসলামিয়াত ও এরাবিকে’ মাস্টার্সের সমমান “আল-হাইয়াতুল উলিয়া বা কওমি বিশ্ববিদ্যালয়ের” অধীনে বাস্তবায়িত করলে কারো আপত্তি করা উচিত নয়। এটা যুক্তিসঙ্গত এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর নজিরও আছে।

তবে কোন কোন শিক্ষাবিদ না জেনেই প্রশ্ন তুলছেন, নিচের স্তরগুলো বাদ দিয়ে শুধু দাওয়ার সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি দেয়া কিভাবে সম্ভব তাদের বুঝে আসছে না। এমন প্রশ্ন সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার উচ্চপর্যায়ের শিক্ষিতদের কাছ থেকে আসায় আমার খুবই লজ্জা লাগছে তাদের জানার সংকীর্ণ পরিধি দেখে। কারণ ঔপনিবেশিক শাসনামলের পূর্বে ভারত উপমহাদেশে মৌলিক শিক্ষাব্যবস্থা বলতে এটিই ছিল। এ শিক্ষাব্যবস্থার হাত ধরেই আমাদের স্বাধীনতা এসেছে । সুতরাং এ শিক্ষাব্যবস্থাকে অস্বীকার করা বোকামি বৈ নয়।

কওমি মাদরাসায় মূলত ৬-টি শিক্ষাস্তর আছে। ২০১৩ সালে সরকারের কাছে দাখিল করা কওমি শিক্ষানীতিতেও তার বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এগুলো হল- ইবতেদাইয়্যাহ (প্রাথমিক), মুতাওয়াসসিতাহ (নিম্ন মাধ্যমিক ), সানাবিয়্যাহ আম্মাহ (এসএসসি), সানাবিয়্যাহ খাসসাহ (এইচএসসি), মারহালাতুল ফজিলত (স্নাতক সমমান), মারহালাতুত তাকমিল/ দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) ।

সুতরাং দাওরায়ে হাদীসকে মাস্টার্সের মান দেয়া হুট করে দেয়া কোন সিদ্ধান্ত নয়? বরং দীর্ঘদিন থেকে বঞ্চিত মূলধারার এ শিক্ষাব্যবস্থা ও তার শিক্ষার্থীদের অধিকার ফেরত দেয়ার ঘোষণা হয়েছে মাত্র।

এর আগে একইভাবে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করেছিল এবং ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর ইউজিসি একটি সার্কুলার জারি করে। সে অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষা ও আরবি সাহিত্য বিষয়ে দাওরায়ে হাদীসের ডিগ্রিধারীদের লেখাপড়া ও শিক্ষকতার সুযোগ ছিল; কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ব্যাপারে সরকার কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আইন পাশ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহ সংশয় থেকেই গেল! তাই আমাদের দাবি থাকবে সত্যিকার অর্থেই যদি সরকার এর উন্নতির ইচ্ছায় স্বীকৃতির ঘোষণা দেয় সেটি যেন শুধু প্রজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ না থাকে। একে আইনে পরিণত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + 4 =