কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন কেন?

কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন কেন?

ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করা একটি ছেলের সামনে দাওরায়ে হাদিস পাশ করা কোনো মুল্লাকে বসিয়ে দিলে মুল্লার কী অবস্থা হবে! একাডেমিক লাইনে পাঁচ মিনিট কথা বলতে পারার কি যোগ্যতা আছে তাদের? তাহলে কী ঘোড়ার ডিমটা পাশ করে
মাস্টার্স’র মান পেয়ে যাবে তারা…’
মীমাংসাটা তাহলে হয়েই যাক।
ইউনিভার্সিটি থেকে ইংলিশে অনার্স-মাস্টার্স করে
বেরিয়েছেন আপনি।
জ্বি, আপনাকেই আমার দরকার। আসুন,
একটু গপশপ করি।
– কী নিয়ে কথা বলতে চান?
– যোগ্যতা নিয়ে।
– কার যোগ্যতা? কেমন যোগ্যতা?
– আপনি মাস্টার্স এবং দাওরায়ে
হাদিস পাশ কওমি মাস্টার্সের।
– আপনার কী যোগ্যতা আছে আমার সাথে কথা
বলার!
– যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্যই তো বসা।
– লেট’স গো। (যোগ্যতার প্রদর্শন শুরু।
ইংলিশে
মাস্টার্স তো!)
[বেঠক শুরু। শুরু হল কথা।
শুরুটা হল এভাবে-]
– হাই! হাউ আর ইউ, ম্যান?
– আলহামদুলিল্লাহ। তায়্যিব।
কাইফাল হাল ইয়া আখী?
– আই’ম সরি। আই ডিডেন্ট
আন্ডাস্ট্যান্ড হোয়াট ডিড
ইউ সে। হোয়াট ডাজ ‘কাইফাল হাল’ মীন্স?
[লাগছে প্যাঁচ! ইংলিশে আর
আরবিতে।]
– কী বলছেন আপনি?
– কেনো! আপনার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি।
– আরবিতে দিচ্ছেন কেনো! আমি
তো আরবি বুঝি না।
– আপনি আরবি না বুঝলে সেটা তো আপনার সমস্যা,
আমার না। তাছাড়া আপনি মাস্টার্স পাশ মানুষ! প্রাথমিক এই আরবিগুলোও বুঝবেন না কেনো!
[যোগ্যতা ইংলিশ থেকে বাংলায় নেমে এলো এবার]
– আচ্ছা নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি ব্যাখ্যা করুন তো!
– আপনি ‘উলা-ইকা কাল আনআম, বালহুম আদ্বাল’ লাইনটি আগে আমাকে ব্যাখ্যা করুন।
– এটা আবার কী?
– এটা গভীর তাৎপর্যিক একটা ঔশী কথা। আপনার
আশপাশের অনেকের সাথেই যায়।
– আমি তো আরবিতে মাস্টার্স করিনি! আমার
সাবজেক্ট তো ইংরেজি সাহিত্য।
– এইতো লাইনে চলে এসেছেন। আমিও তো
ইংলিশে মাস্টার্স করিনি। আমার সাবজেক্ট তো আরবি
ছিল। আমাকে তো ‘আরবি এবং ইসলামিক স্টাডিজ’-এ
মাস্টার্সের মান দেয়া হয়েছে।
তাহলে আপনার এতো চুলকাচ্ছে কেনো!!

লিখেছেন শ্রদ্বেয় রশিদ জামিল সাহেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 5 =