নেককারদের জন্য সুসংবাদ!

নেককারদের জন্য সুসংবাদ!

সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “নিশ্চয়ই ইসলামের প্রারম্ভ অপরিচিত অবস্থায় হয়েছে এবং অতিসত্ত্বর ইসলাম সে অবস্থায়ই ফিরে যাবে যেভাবে শুরু হয়েছে। অতঃপর সুসংবাদ সেই অপরিচিতদের জন্য। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, অপরিচিত কারা ইয়া রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, যারা মানুষের ফিতনা ফাসাদের সময়ে তাদের সংশোধন করবে।” (তাবারানি শরিফ)

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, “বলা হল, অপরিচিত কারা ইয়া রাসুলুল্লাহ? আল্লাহর রাসুল জবাবে বললেন, বহু সংখ্যক খারাপ মানুষের মাঝে অল্প কিছু নেককার মানুষ। খারাপদের মধ্যে যাঁদের অবাধ্যতাকারির সংখ্যাই বেশী হবে আনুগত্যকারিদের চেয়ে।”

রাসুলুল্লাহ সা এর ভবিষ্যতবাণী ইতিমধ্যেই সুস্পষ্টরুপে প্রতিভাত হয়েছে, যার মাঝে কোন প্রকার সন্দেহ বা অস্পষ্টতা নেই; ইসলামের আবির্ভাব অপরিচিত অবস্থাতেই হয়েছিল, অতঃপর তা প্রভাব অর্জন করেছে এবং সু-উচ্চ মর্যাদাশীল হয়েছে ও তার অনুস্বারিরা সম্মানিত হয়েছে। মানুষ দলে দলে আল্লাহর এই মনোনীত দ্বীনে প্রবেশ করেছে। অতঃপর তার অপরিচিত দুর্বল অবস্থা পুনরায় ফিরে এসেছে চূড়ান্ত রুপে। এবং এর আলামত সমূহও পরিপূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়েছে।

এবং হে আল্লাহর বান্দাগন!

এই অপরিচিত দুর্বল অবস্থা ক্রমেই একটির পর একটি করে বাড়ছে; মানুষের মাঝে প্রবৃত্তি এবং সন্দেহের ফিতনার ক্রমানুপ্রবেশের মাধ্যমে। এমনকি শয়তানের চক্রান্ত বড় মজবুত হয়েছে এবং অধিকাংশ লোক তার আনুগত্য করেছে। ফলে ফিতনাহ ও বিপদাপদের পরীক্ষা সমুহ বিশালাকার ধারণ করেছে, অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে এবং যাবতীয় বিষয় পেঁচিয়ে গেছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও ফিতনা সমুহ থেকে মুক্তি ও নিস্পত্তির পথ স্পষ্ট।

রাসুলুল্লাহ সা বলেন, “তোমরা বেশী বেশী আমলের মাধ্যমে নিকষ কালো রাতের ঘনীভূত অন্ধকারের মত ফিতনা সমুহের মোকাবেলা করবে। (ফিতনার সময়ে) মানুষ মু’মিন অবস্থায় সকাল যাপন করবে তো সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে অথবা মু’মিন অবস্থায় সন্ধ্যা যাপন করবে তো সকালে কাফির হয়ে যাবে। এবং সে তার দ্বিনকে বিক্রি করবে দুনিয়ার সামান্য বিনিময়েই।” (মুসলিম শরিফ)

হে মুসলমানেরা!

নিশ্চয়ই এখানে দ্বীনের দুর্বলতার মাধ্যমে মুমিনদেরকে পরীক্ষা করার মাঝে আল্লাহর হেকমত রয়েছে। তা হলো, খবিসদেরকে পবিত্রদের থেকে আলাদা করা। এবং মিথ্যাবাদীদের থেকে সত্যবাদীদেরকে চেনা। এবং মুমিনদেরকে মুনাফেকদের থেকে স্পষ্ট করা। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আল্লাহ এমন নন যে, অপবিত্রদেরকে পবিত্রদের থেকে পৃথক করে দেয়া পর্যন্ত ঈমানদারগণকে সে অবস্থাতেই রাখবেন যাতে তোমরা রয়েছ।” (সূরা আলে ইমরান-১৭৯)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন, “মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি অথচ তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নিবেন মিথ্যুকদেরকে।” (সূরা আনকাবুত-২,৩)

অপরিচিত অবিচল নেককারদের জীবন পবিত্র। তারা আল্লাহর কাছে সম্মানিত। তারা সেই মহান পুরস্কার পাবে যার সুসংবাদ নবী করীম (সা) তার কথা-“অপরিচিত অবিচল নেককারদের জন্য সুসংবাদ!”-এ দিয়েছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ) বলন, “আর বিষয়টি কেবল এই নয় যে, যখন দ্বীন ‘গরীব’ তথা দুর্বল ও অপরিচিত হয়ে যাবে তখন ‘শার্’ তথা অশ্লীলতা, অন্যায়, পাপাচারী সমাজের মাঝেও কোন ব্যক্তি দ্বীনকে আঁকড়ে ধরে থাকলো। বরং সে তো সমগ্র মানবকুলের মাঝে সবচে’ সৌভাগ্যশালী ব্যক্তি! যেমনটা রাসুলুল্লাহ (সা) হাদিসের শেষে বলেছেন, “গুরাবাদের জন্য সুসংবাদ।”

এবং নেককার ও পবিত্রদের জন্যেও সুসংবাদ। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ এবং মনোরম প্রত্যাবর্তণস্থল।” (সূরা রা’দ-২৯)

নিশ্চয়ই পবিত্র ব্যক্তি সেই সকল অগ্রজ পূর্ববর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যারা দ্বীনের অপরিচিত ও দুর্বল অবস্থায় আল্লাহর রাসুলের অনুস্বরন করেছিলেন। আর তারাই সমগ্র মানব জাতির মাঝে সৌভাগ্যশালী মানুষ।

যখন সাহায্যকারী কম হয় ও মদদকারী দুষ্প্রাপ্য হয়, তখন ইসলাহকারী গুরাবাদের তথা সংশোধনকামী নেককার দুর্বল অবিচলদের যুগ চলে আসে। যারা আল্লাহর আদেশ নিয়ে চলমান পাপাচারী ফিতনাময় সমাজের ঢলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যায়। যদিও তারা মানুষদের মধ্য থেকে তাদের কোন সাহায্যকারী পায় না এবং এমন কাউকেই পায় না যে তাদেরকে সমাজে একটু প্রভাব দান করবে। বরং তারা দাঁড়ায় কেবল ফিতনা ও পাপাচারের প্রতিরোধ ও এসবের সাথে শত্রুতা প্রদর্শন করতেই। এমতাবস্থায় নিশ্চয়ই তাদের প্রতিদান হবে বিশাল এবং আল্লাহর কাছে তাঁদের মর্যাদা হবে বহু উঁচু স্তরের।

হে আমার ভাইয়েরা!

ঐ সকল গুরাবাদের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা তাদের বিশেষত্ব ও উত্তমতা এবং আদর্শের উপর অবিচলতা, উঁচু লক্ষ্য এবং সুদৃঢ় ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ বহন করে।

দ্বিনের গরীব অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ (সা) এর হাদিসে তাঁদের যে সকল গুণাবলী পাওয়া যায় তা হল-

আল্লাহর রাসুলের জীবনাদর্শকে আঁকড়ে ধরে থাকা যখন মানুষ এর থেকে বিমুখ হয়ে থাকে ও এর মাঝেই একাগ্রচিত্ত্ব হওয়া। এবং এর বিপরীতে মানুষ উদ্ভাবিত সমস্ত কিছুকে পরিত্যাগ করা। এরাই হল ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা প্রকৃত অর্থেই পাথরের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের মুঠোয় ধারণ করে রাখার মত কঠিন এই কাজ করে। অতঃপর অবশ্যই তাঁদের এই ‘গুরবাত’ তথা অপরিচিতি, অবিচলতা ও দুর্বলতা তাদেরকে বিরল ব্যক্তিত্বদের মাঝে অধিষ্ঠিত করে। তাঁদের মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল যে তারা আল্লাহর দ্বিঙ্ক্ব আঁকড়ে ধরেছে এবং অটল ও অবিচল থেকেছে। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাঁদের প্রতিদানকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাঁদের মধ্য থেকে নিজের দ্বীনের ওপর ধৈর্য ধারণকারী পাথরের জ্বলন্ত অঙ্গার নিজের হাতের মুঠোয় ধারণকারীর ন্যায় হবে।” (তিরমিযি)

রাসুলুল্লাহ (সা) আরও বলেন, “তোমাদের পেছনেই আসছে এমন কিছু দিন, যে দিনগুলোতে ধৈর্যের সাথে দ্বীনের ওপর অটল থাকা হাতের মুঠোয় পাথরের জ্বলন্ত অঙ্গার ধারণ করার মত কঠিন হবে। সেই দিনগুলোতে একজন নেক আমলকারীর প্রতিদান হবে অনুরূপ নেক আমলকারী ৫০ জনের সমান- যারা তোমাদের (সাহাবাদের) আমলের মত আমল করে।” জিজ্ঞাসা করা হল ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমাদের মধ্যেকার পঞ্চাশ ব্যক্তির অনুরুপ প্রতিদান নাকি তাঁদের মধ্য থেকে? আল্লাহর রাসুল বললেন, “বরং তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ ব্যক্তির প্রতিদান।” (তিরমিযি, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)

তাঁদের যে সকল বৈশিষ্ট্য আল্লাহর রাসুল তাঁর হাদিস সমূহে স্পষ্ট করেছেন তন্মধ্যে এটিও যে, তারা মানুষের ফাসাদের সময়ে নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করবে। তারা নিজেদের উপর প্রকৃত সত্যকে আবশ্যক করে নিবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে তা মজবুত করে ধরবে। এবং আল্লাহর আনুগত্য তাঁর প্রদত্ত্ব জীবন ব্যবস্থার উপর অটল ও অবিচল থাকবে।

এমনিভাবে তারা সে সবকিছুর সংস্কার করবে যা মানুষ আল্লাহর দ্বীন ও রাসুলের জীবনাদর্শ থেকে বিকৃত ও নষ্ট করেছে। এবং তারা ভূপৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টি করা থেকে মানুষকে প্রতিহত করবে। আর এটাই প্রত্যেক যুগে ও জায়গায় গুরাবাদের সিফাত বা বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।” (সূরা হুদ-১১৬)

তাদেরকে দায়িত্ব পালন থেকে ফেরাতে পারবে না মানুষের সত্যকে গ্রহন না করা।

ওয়াইস আল-করনি (রহ) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর আদেশ নিয়ে মুমিনের দাঁড়িয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কোন বন্ধুকে বাকী রাখবে না। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকাজের আদেশ করব এবং অসৎকাজ হতে বাধা প্রদান করব। অতঃপর তারা চাই আমাকে শত্রু মনে করুক এবং আমাকে প্রতিরোধ করতে তারা চাই ফাসেকদের থেকে সাহায্য গ্রহন করুক। এমন কি আল্লাহর শপথ! তারা যদিও আমাকে বড় অপবাদ দেয়, আঘাত করে, আরও কসম আল্লাহর- তাঁদের সবকিছুই আমাকে আল্লাহর জন্য ‘হক’ নিয়ে দাঁড়ানো থেকে বাধা প্রদান করতে পারবে না।”

হে মুসলমানেরা!

রাসুলুল্লাহ (সা) এর হাদিস সমূহে উল্লেখিত গুরাবাদের এ সকল বৈশিষ্ট্যাবলী আমাদেরকে এ দিকেই পথ নির্দেশ করে যে তারা কেবল কিছু পরিশুদ্ধ মানুষই ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন পরিশুদ্ধকারি সংস্কারক। তারা গভীর দৃষ্টি ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং হকের দাওয়াত ও দ্বীনের সংশোধন-সংস্কারকারী। তারা ঐ সকল মানুষদের মধ্য থেকে নয় যারা কেবল নিজের জন্য বাঁচে, এবং নিজকেই গুরুত্ব দেয় এবং মানুষের সাথে মেশা থেকে বিরত থাকে এই ভয়ে যে, তাঁদের থেকে নিজের মাঝে হতাশা ও নৈরাশ্য সংক্রমণ করবে এবং সমসাময়িক ফিতনাময় বাস্তবতায় নিজে সমর্পিত হয়ে যাবে। বরং তারা হচ্ছে আসহাবে রিসালাহ তথা পয়গামে রিসালাতের দায়িত্বধারী। মানুষের কল্যানের প্রতি প্রবল আগ্রহী হয়ে তারা জনসমাজে মিশেন।

এক্ষেত্রে তাঁদের প্রেরণা হল রাসুলুল্লাহ (সা) এঁর ঐ হাদিস, যাতে তিনি বলেছেন, “এমন মুমিন, যে মানুষের সাথে মিশে এবং তাদের দেয়া কষ্টতে ধৈর্য ধারণ করে, তাঁর প্রতিদান বেশী ঐ মুমিনের চেয়ে, যে মানুষের সাথে মিশে না এবং তাদের দেয়া কষ্টতে ধৈর্য ধারণ করে না। (ইবনে মাযাহ)

অতঃপর তারা লোকদেরকে হেদায়েতের দিকে আহবান করে যারা হেদায়েত থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে এবং তাদের দেয়া কষ্টতে তারা সবর করে।

দ্বিনের গরীব অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ (সা) এর হাদিস সমূহ থেকে আরও স্পষ্ট হয় যে, ইসলামের এমন সময়ে আহলে হকদের উপর আবশ্যক হল তারা তাদের নিজ নিজ স্থানে সংস্কারের কাজ নিয়ে দাঁড়াবে। এবং ইসলামের বিধান সমূহ পালন ও এর প্রতি দাওয়াত ও এসকল ইসলামি বিধানের ফজিলত ও বাস্তবিক প্রয়োগে উভয় জাহানের কল্যাণ সাধিত হবার প্রচার প্রসার ও খারাপ বিষয়াদির প্রতিকার এবং রাসুলের সুন্নতের পক্ষে প্রতিরোধ ও বিদ’আত তথা ধর্মের মাঝে নব আবিষ্কৃত বিষয়াদি থেকে সতর্কীকরণে আরও উদ্যমতা বাড়িয়ে দিবে। কল্যাণের প্রতি সার্বিক চেষ্টা-প্রচেষ্টাকে আরও ক্ষিপ্র করবে, দাওয়াতের উপর অবিচল থাকবে এবং এর কারণে আসা কষ্টে সবর করবে- আল্লাহর কাছে এ সকল কাজের যে বিশাল প্রতিদান রয়েছে তার পবিত্র আশায়।

তাদের উপর আবশ্যক এর উপর অটল থাকা যতক্ষণ না তারা উম্মতের ফাসাদের সময়ে সৎকর্মশীল হয় এবং উম্মতের সৃষ্টি করা ফাসাদের সংস্কারক হিসেবে পরিগনিত হয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর আপনার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সংশোধনকারী হওয়া সত্ত্বেও।” (সূরা হুদ-১১৭)

এবং এজন্যেও যে, যায়নাব বিনতে জাহশ (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞেস করেন, আমরা কি ধ্বংস হব যদিও আমাদের মাঝে সৎকর্মশীল থাকেন? আল্লাহর রাসুল বললেন, “হ্যাঁ, যখন অশ্লীলতা, অন্যায় ও পাপাচার খুব বেড়ে যাবে।”

অতএব, আল্লাহর আযাব ও ধ্বংস আসার পথে বাধা ও প্রতিবন্ধক হল ‘ইসলাহ’ তথা সমাজ সংশোধন বা সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা। কেবল নিজে সৎকর্মশীল হওয়া যথেষ্ট নয়। তাই, আবশ্যক হল, মানুষ নিজে সংশোধিত হবে এবং অপরকেও সংশোধন করবে।

(৩০ জুমাদাল উলা, ১৪৩৯ হিজরী মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার শাইখ ড. ফয়সাল বিন জামিল গাযাওয়ীর খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 2 =