যে গ্রাম ১১৯ বার ধ্বংস করেছে ইসরাইল

যে গ্রাম ১১৯ বার ধ্বংস করেছে ইসরাইল

ইসরাইলি বাহিনী একটি গ্রামে ১১৯বার ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ নেগেভ অঞ্চলে বেদুইন অধ্যুষিত আল আরাকিব নামের গ্রামে এ নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

আল-আরাকিব গ্রামের অধিবাসীরা জানান, সশস্ত্র বাহিনী ও দাঙ্গা পুলিশ বুলডোজার দিয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামে নতুনভাবে নির্মিত ভবনগুলো ভেঙে ফেলে। এ নিয়ে গত সাত বছরে তারা ১১৯বার ভবন ধ্বংস করে। খবর আলজাজিরার।

ওই গ্রামের শিয়া নেতা আল তাওরি জানান, তারা (সশস্ত্রবাহিনী) গ্রামের সবকিছু ধ্বংস করেছে, প্রতিটি ভবন, প্রতিটি ঘর তারা গুঁড়িয়ে দেয়।

ওই গ্রামে ২০১০ সালের ২৭ জুলাইপ্রথম যখন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় তখন সেখানে ২২০জন মানুষ সে গ্রামে বসবাস করতেন। ভবনগুলো গুড়িয়ে দেয়ার পর গ্রামবাসী অন্যকোনো উপায় না পেয়ে পুণরায় ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করতে থাকেন। কিছুদিন পরপর ওই গ্রামে এভাবে চলে ভাঙা গড়ার খেলা। বর্তমানে ইসরাইলে প্রায় দুই লাখ বেদুইন বসবাস করেন।

আল তাওরি জানান, ইসরাইলি বর্ণবাদী আচরণের কারণে তারা ওই ভবনগুলোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, আমাদের নাগরিক সব সুবিধা কেড়ে নিয়ে তারা আমাদের জোর করে সরিয়ে দিতে চায়। তারা আমাদের চিনে না, আমাদের সব মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

এদিকে ইসরাইল দাবি করছে, তারা ইমারত নিয়ম না মেনে ভবনগুলো তৈরি করায় সেগুলো ধ্বংস করা হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা বলছেন, তারা যাবতীয় নিময়কানুন মেনেই ভবনগুলো তৈরি করেন, কিন্তু ইসরাইলী বাহিনী বিদ্বেষবশতঃ এগুলো ধ্বংস করে দেয়।

আল –তাওরি জানান, তাদের পূর্ব পুরুরষরা এখানে ১৯১৪ সাল থেকে বসবাস করে আসছেন। তাদের কবরস্তান পর্যন্ত এখানে বিদ্যমান।

আল –তাওরি জানান, ওই গ্রামে ৬টি সুপেয় পানির ঝর্ণা রয়েছে। কিন্তু সেগুলো থেকে তারা পানি সরবরাহ করতে পারেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =