জেগে ওঠো ঘুমন্ত মুসলিম, মানবতা অঝোরে কাঁদছে

জেগে ওঠো ঘুমন্ত মুসলিম, মানবতা অঝোরে কাঁদছে

আরাকান থেকে অসহায় রোহিঙ্গাদের বংশ একেবারে নির্বংশ করার মিশনে এবার বড়ো ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে নরপিশাচ মায়ানমার আর্মি। ইতোমধ্যে নরপিশাচরা রোহিঙ্গা নির্যাতনের অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময় এক নতুন ঘৃণ্য অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নির্যাতনের এমন কোনো পন্থা বাকী নেই, যা রোহিঙ্গাদের উপর প্রয়োগ করছেনা। মানবতার ছিটে ফোঁটাটুকুও বাকী নেই আরাকানে।
.
পৃথিবীর নানান প্রান্তে বিভিন্ন সময় অমুসলিম কর্তৃক মুসলিমরা নির্যাতিত হলেও সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর মায়ানমার আর্মি কর্তৃক চালানো হত্যাযজ্ঞের সাথে এসবের তুলনাই চলে না। রোহিঙ্গাদের সমূলে নির্মূল করার নিমিত্তে আরাকানের মুসলিম বসতিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বৌদ্ধদের অনেক আগেই নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে সেদেশের সরকার। যাতে তারা নির্বিঘ্নে হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে।
.
আর এখন মাঠ ফাঁকা পেয়ে একচেটিয়া হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ করে তারা গ্রামের গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। যাকে পাচ্ছে হত্যা করছে। নারী, শিশুদের পাশবিক কায়দায় হত্যা করছে। যুবতীদের গণধর্ষণ অতঃপর হত্যা করে রক্তমাংস, কাকপক্ষীকে খাওয়াচ্ছে। হিংস্র প্রাণীর ন্যয় মগদস্যুরাও মানব খেকোর ভূমিকায় মাঠে অবতীর্ণ হয়েছে। অবর্ণনীয় ঘৃণ্য এই আচরণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময় অধ্যায়।
.
সবচেয়ে দুঃখজনক ও অমানবিক ব্যাপার হলো, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটে আসা রোহিঙ্গারাও কোথাও পাচ্ছে না রেহাই। হয়তো সে পারের নরপিশাচ আর্মি কর্তৃক হত্যা, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নয়তো বাংলাদেশ সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সীমান্তরক্ষীদের হাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তারা ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। অনিশ্চিত গন্তব্যে পা বাড়াচ্ছে। মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে তাদের জীবন।
.
অনাহারে অর্ধাহারে বিরামহীন পথচলা কঙ্কালসার হওয়া মানুষগুলোকে এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের জন্য মোটেও উচিৎ হচ্ছে না। অন্তত মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও জালিম মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। না হয় এর জন্য একদিন বাংলাদেশকেও বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
.
তাই আসুন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই অমানবিক জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন। বিশ্বকে এই বর্বরতা সম্পর্কে জানিয়ে দিন। ঘুমন্ত মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তুলুন। সাধ্যমতো ঈমানি দায়িত্ব পালন করুন। রাজপথে, অনলাইনে, অফলাইনে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

মানবতার এই চরম দুর্দিনে মানবতার পক্ষে মাঠে নামুন। না হয় কেউই রেহাই পাব না আখেরি দিন। কেউই বাঁচতে না রোহিঙ্গাদের অভিশাপ থেকে।

লেখক: আলী আজম, অনলাইন ইসলামী এক্টিভিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 9 =