তুরস্কে এরদোগানের ডাকে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ

তুরস্কে এরদোগানের ডাকে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ

তুরস্কে এরদোগানের ডাকে ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।  সমাবেশে প্রধান বিরোধী দলের নেতা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরে তিনি তা বয়কট করেন।

শনিবার রাতে বসফরাস প্রণালীর ‘শহীদ সেতু’সংযোগ স্থলে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে জনতার এ সমাবেশ ঘটে।

সামনে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

জনতার উদ্দেশে আবেগী বক্তব্যে এরদোগান দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‌গত বছরের এই দিনে যারা দেশকে রক্ষার জন্য রাস্তায় বেরিয়েছিল তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, ছিল জাতীয় পতাকা। আর আজ যারা বেরিয়েছে তাদের হাতেও জাতীয় পতাকা। বন্দুকের চেয়ে পতাকা বেশি শক্তিশালী।

এ সময় তিনি অভ্যুত্থানকারীদের ঠেকিয়ে দেয়া জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এরদোগান তার বক্তব্যে ১৫ জুলাইকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।

আড়াই শতাধিক মানুষ জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করে গেছেন উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, অভ্যুত্থানকারীরা গত বছর এই রাতে সেতুটি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল যে, তুরস্ক এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সেদিন দেশের সম্মানে রাস্তায় নেমে তাদের রুখে দেয়। তারা বিশ্বাসঘাতকদের ঘাড় মটকে দিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই অভ্যুত্থানকারীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি (বিনালি) বলেছিলেন, আদালতে তোলার সময় তাদের যেন গুয়ানতানামোর বন্দিদের মতো পোশাক পরানো হয়।

গত বছরের ১৫ জুলাই তুরস্কে সেনাদের একাংশের অভ্যুত্থানচেষ্টায় আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হন। আহত হন আরও  দুই সহস্রাধিক।

ব্যর্থ এই অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে দেড় লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে তুরস্ক সরকার। অভ্যুত্থানচেষ্টায় সমর্থন দেয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম ১৫ জুলাইকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এক বছর আগের এই রাতটি ছিল ভয়াবহ, বিভীষিকাময়। এ রাত ছিল দীর্ঘ, একটি ঝলমলে রোদ্রৌজ্জ্বল দিনে প্রবেশের আগমুহূর্ত।
প্রধানবিরোধী দলের নেতার অনুপস্থিতির কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই দল দিনে পাঁচবার সিদ্ধান্ত বদল করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − four =