সমকামিতার সাজা!

সমকামিতার সাজা!

১২/১৩ বছরের একটি ছেলেকে টেনে-হেছড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মদীনার গলি দিয়ে। আর ঐছেলেটি চিৎকার করে বলছিল,
আমাকে ছেড়ে দাও, আমি নিষ্পাপ।
ছেলেটিকে হাজির করা হল শেরে খোদা হজরত আলী (রা:) এর দরবারে।

বাদীগণ অভিযোগ দিল যে, হে আমিরুল মুমিনীন, এই বালক আমাদের চাকর। সে তার মালিক – আমাদের পিতাকে নির্জন ঘরের মধ্যে হত্যা করেছে। আপনি মেহেরবানি করে বদলা স্বরুপ বালকটিকে হত্যার হুকুম জারি করুন।

বালক তখনও বারবার চিৎকার দিয়ে বলছিল যে, আমি হত্যা করেছি ঠিক কিন্তু আমি নির্দোষ। আমাকে ছেড়ে দিন।
হজরত আলী  (রা:) বালককে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি খুনি হয়েও নিজেকে নিষ্পাপ কিভাবে দাবি করছো?
জবাবে বালক বলল; হুজুর, আমার মালিক খুব বদস্বভাব ও খারাপ চরিত্রের লোক ছিল। সে আমার সাথে বলাৎকার (সমকাম) করতে চেয়েছিল। আমি রাজি ছিলাম না দেখে সে আমার সাথে জবরদস্তি শুরু করে।  কোনো উপায় না দেখে আমি ইজ্জ রক্ষার্থে মালিককে হত্যা করেছি। অতএব, আমি নির্দোষ। আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।

হজরত আলী (রা:) উভয়পক্ষের কাছে ঘটনার স্বাক্ষী-প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। উভয়পক্ষ জবাব দিল উক্ত ঘটনার কোন প্রকার স্বাক্ষী-প্রমাণ নেই।

মহাজ্ঞানী হজরত আলী  (রা:) কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে ভাবলেন। এবং নির্দেশ দিলেন যে, এই বালকটিকে ৩ দিন বন্ধি করে রাখো এবং নিহত ব্যক্তির লাশটিকে দাফন করে ফেলো।

তিনদিন পর হজরত আলী  (রা:)কবর খোঁড়ার হুকুম দিলেন এবং দেখলেন উক্ত কবরের মধ্যে দাফনকৃত লাশটি নেই।

খুন হওয়া ব্যক্তির লাশ কবরে না পেয়ে হজরত আলী  (রা:) ঘাতক বালকটিকে বেকসুর খালাস ও তাৎক্ষণিক মুক্ত করার আদেশ
দিলেন।

অত:পর উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে হজরত আলী ভাষণ দিলেন। ভাষণে তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স)-এর মুখ থেকে শুনেছি, সমকামিতায় অভ্যস্ত ব্যক্তি দাফন হওয়ার পর ৩ দিনের মধ্যে তার লাশ কওমে লূতের কবরস্থানে (মৃত সাগরে) স্থানান্তর করে ফেলা হয়।
উক্ত ঘটনা ও বর্ণিত হাদিসের আলোকে নিহত মালিক সমকামী ছিল এবং বালকটি ছিল সত্যবাদী নির্দোষ।

সূত্রঃ (খুতুবাতে জিয়াউর রহমান ফারুকী শহীদ রহঃ)

লেখক, মাওলানা এনামুল হক মাসুম, ঠাকুরগাঁও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + twenty =