স্বপ্নের ভবিষ্যত না ভবিষ্যতের স্বপ্ন

স্বপ্নের ভবিষ্যত না ভবিষ্যতের স্বপ্ন

কয়েকদিন যাবৎ ফেসবুকে কম প্রবেশ করছি। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি।

গতকাল এমনিতেই সারাদিন বৃষ্টি ছিল। বৃষ্টির দিনে টিনের চালের নিচে ঘুমানোর মজাটাই আলাদা। ঢাকা শহরে টিনের চাল কম। পাকা ছাদ বেশী। টিনের চালের নিচে ঘুমাচ্ছি – এই ধরণের কল্পনা করতে করতেই ঘুমিয়ে ডাইরেক্ট স্বপ্নের জগতে চলে গেলাম।

স্বপ্ন শুরু হয়েছে। লালবাগ থেকে মূহূর্তেই চলে গেলাম হোয়াইট হাউসে। বাস্তবে যেতে হলে বারিধারায় আমেরিকান দুতাবাসে গিয়ে লাইন ধরে ভিসা নিতে হয়, টিকেট করে প্লেনে উঠতে হয়। স্বপ্নে ওসব লাগে না।

হোয়াইট হাউসে বসে ট্রাম্প চুরুট খাচ্ছিল। হাই হ্যালো বলার পর বলল, আমি মুসলিম বিশ্ব নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।

বিস্ময় প্রকাশ করতেই কানে কানে বলল, আমি ব্যবসায়ী মানুষ। অস্ত্র বিক্রি করব মুসলমানদের কাছে। আমি বুশ কিংবা ওবামার মত বোকা না যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠাব। আমি এমন কিছু করছি দেখতে পাবে মুসলমানরাই মুসলমানদেরকে মেরে কেটে সাফ করে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যে তা কিন্তু অলরেডি শুরুই হয়ে গেছে।

বাদশাহ সালমানকে টিভিতে দেখা গেল খুব ক্লান্ত ভঙ্গিতে বসে গাহওয়া খাচ্ছেন। ট্রাম্প বলল, বেচারা আমেরিকান অস্ত্র কিনে ঝামেলায় আছে। আমরা অস্ত্র দিয়েছি কিন্তু ওটা কিভাবে চালাবে তা শিখাইনি।

বললাম, ইরানের পারমাণবিক বোমার খবর কি?

স্বর নিচু করে বলল, ওরা আমাদের গোপন বন্ধু, তোমাদের বাংলাদেশে যেটাকে বলো পরকিয়া, ওদের সাথে সম্পর্ক অনেকটা সেরকমই।

কথাবার্তা মোটেই ভাল লাগলো না। চলে এলাম সোজা ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে। এখানে বেশকিছু লোককে সবুজ ঘাসের উপর বসে থাকতে দেখা গেল। এক মহিলা একটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের লোগো লাগানো মাইক্রোফোন হাতে এদের ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। অবশ্য উনার মুখের দিকে তাকালে উনি মহিলা নাকি পুরুষ বুঝা কঠিন।

প্রথমেই মাইকের সামনে যিনি এলেন তার মাথায় বিশাল টাক। মহিলা মাইক মুখের কাছে নিয়ে বললেন, আপনার মাথায় এতবড় টাক কেনো?

তিনি বললেন, সবাই আমার মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খায় তাই এত বড় টাক হয়েছে।

আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কি?

স্বপ্ন একটাই, আমিও সুযোগের অপেক্ষায় আছি। সুযোগ পেলেই জাতির মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাব।

এবার এলেন যিনি তিনি একজন বুদ্ধিজীবী। নাকের নিচে সামান্য গোঁফওয়ালা এই বুদ্ধিজীবী বললেন, চেতনা নিয়ে কাজ করছি। আমাকে ডিস্টার্ব কইরেন না।

কিন্তু আপনার দুই গালে এসব কিসের দাগ?

আমরা কখনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির, কখনো শক্তিশালী যারা তাদের পা চাটি তাই চাটতে চাঠতে গাল দিয়ে কিছু পদার্থ বেরিয়ে গিয়ে দাগ পড়ে গেছে। প্লিজ এইসব দৃশ্য টিভিতে দেখাবেননা।

একজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলেন সেই সময়। তিনি বললেন চাটাচাটি এখন হচ্ছে উন্নতির প্রধান সোপান। এ নিয়ে লজ্জার কিছু দেখছিনা। আমার স্বপ্ন এ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি করব। দেখবেন দেশ বিদেশে হৈচৈ পড়ে যাবে।

এ সময় শাহবাগ থেকে একজন এসে প্রবেশ করলেন উদ্যানে। তিনি সোজা এসে মাইক হাতে নিয়ে বললেন, সব দোষ বিরোধীদলের।

পেছন থেকে আরেকজন মাইক কেড়ে নিয়ে বললেন, সব হচ্ছে সরকারি দলের ষড়যন্ত্র। দেশটাকে বরবাদ করে দিল এরা।

মহিলা বললেন, আপনাদের দ্বারা কি দেশের উন্নয়ন সম্ভব মনে করেন?

একজন বললেন, আমরা যা করেছি বাপের জনমেও কেউ দেখেনি। আমরাই তারা যারা টাকা রফতানি করতে সক্ষম হয়েছি।

দর্শকদের মধ্য থেকে একজন বলল, আপনাদের কোন ফিউচার প্ল্যান আছে এই দেশ নিয়ে?

বললেন, আমরা সব দলেরই ত স্বপ্ন একটাই, দেশকে লুটে পুটে খাব। এসব কি বলার মত ব্যাপার?

না বলাই ভাল। একজন মন্তব্য করলেন।

দুটো কিশোর হেঁটে আসছিল উদ্যানেরর উল্টো পাশ দিয়ে। একজনের পরণে পাজামা পাঞ্জাবী, মাথায় টুপি। অপরজনের পরনে শার্ট প্যান্ট। ক্যামেরা ওদের দিকে তাক করলেন সেই টিভি রিপোর্টার। বললেন, তোমাদেরর স্বপ্ন কী? বড় হয়ে কী করতে চাও?

দুইজন সমস্বরে বলল, আমাদের স্বপ্ন একটাই, বড় হয়ে তোমাদেরকে থাপড়ানো।

থাপড়ানোর কথা শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।

বাইরে তখনো তুমুল বৃষ্টি।

লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + eight =