২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্ক হবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী রাষ্ট্র

২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্ক হবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী রাষ্ট্র

দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে তুরস্কের সার্বিক চিত্র। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে তুরস্ক ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। এ অবস্থা বজায় থাকলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই তুরস্ক হয়ে উঠবে বিশ্বের সেরা ধনী দেশ। সেই সঙ্গে সামরিক দিক থেকেও হবে সবচেয়ে ক্ষমতা সম্পন্ন রাষ্ট্র।

এ সব কিছুর মূলে এরদোগানের নেতৃত্বকেই বড় করে দেখছেন তুর্কিরা।

তুরস্ক যে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে সে সুর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের কণ্ঠেও উচ্চারিত হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্ক হবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সম্প্রতি রাজধানী আঙ্কারাতে টার্কিশ ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (টিওবিবি) এর এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান উচ্চ সুদের হারকে অর্থনৈতিক শোষণের মূল হাতিয়ার বলে অভিহিত করে বলেন, ‘সর্বোপরি উচ্চ সুদের হার সম্পর্কে অভিযোগ আছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটা আমার স্মরণে আছে। কারণ আমি উচ্চ সুদকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখছি। এটা মুনাফা নয় বরং শোষণের হাতিয়ার।’

তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে আনার জন্য এরদোগান স্পষ্টভাষী হয়ে উঠেছেন। এরদোগান বলেন,তিনি তাদের প্রত্যেকের পাশে দাঁড়াতে চান যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য উৎপাদন এবং দেশের উন্নতি করা।

‘আমরা সব ধরনের সহায়তা তাদের প্রদান করি যারা কাজ,উৎপাদন এবং আয় করতে আগ্রহী এবং নিজেদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে চায়। আমরা সবসময় তুর্কি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করি যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় থাকে’, তিনি বলেন।

পৃথকভাবে এরদোগান পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে,২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্কের জনসংখ্যা ৯ কোটি ছাড়িয়ে যাবে এবং এটি জনসংখ্যার দেশগুলির উপরে অবস্থিত থাকবে এবং এটি তার ক্ষমতা বজায় রাখবে।

তিনি বলেন,‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা বিশ্বের শীর্ষ দশম অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের জনসংখ্যাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে কাজে লাগাবো’। তিনি আরো বলেন, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে তুরস্কের তরুণ, শিক্ষিত এবং গতিশীল প্রাণবন্ত জনসংখ্যা দেশটির অর্থনীতিক ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে যেটা অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এরদোগান বলেন যে, ২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্কের বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হবে যার মাথাপিছু আয় ২৫,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং তুরস্ক সম্পদশালী দেশে পরিণত হবে যেখানে আয়-বৈষম্য কমে যাবে। তিনি আরো বলেন, এটা দেশকে একতাবদ্ধ করবে।

চাকরির ক্ষেত্র তৈরি এবং ব্যবসার জন্য ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে তার আহ্বানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তুর্কি ব্যবসায়ী সংস্থা চেনাশোনা ইতিবাচকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে,১.১৭ মিলিয়ন মানুষ কর্মসংস্থান তালিকাতে যুক্ত করেছে।

উপরন্তু এরদোগান জোর যে, তাদের উচিত তুরস্ককে তথ্য প্রযুক্তি, শক্তি, পরিবহন, সরবরাহ এবং বাণিজ্যের জন্য সারাবিশ্বের কেন্দ্র পরিণত করা।

‘আমরা টিওবিবি সম্প্রদায়ের মাধ্যমে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তুর্কি গাড়ি তৈরি করব। গাড়ী তৈরির প্রয়োজনীয় জনবল ও গাড়ির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তুরস্কের আছে’, তিনি বলেন।

সূত্র: আনাদোলু নিউজ এজেন্সি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + five =