মুফতি মনোয়ার হোসেন

মুফতি মনোয়ার হোসেন

মুফতি মনোয়ার হোসেন প্রতিভাবান, প্রাণখোলা, বন্ধুসুলভ, পরোপকারী, উম্মাহ দরদী একজন তরুন আলেমে দ্বীন।
.
প্রতিটি মানুষেরই এমন কিছু বন্ধু থাকে যারা তাদের সুন্দর, ভালো ও হ্নদয়গ্রাহী ব্যবহার দিয়ে “মনের মনি কোঠায়” আসন করে নেয়। আমার তেমনই একজন বন্ধু “মুফতি মনোয়ার হোসেন”। তার অব্স্থান, পরিচিতি ও যোগ্যতার সামনে নিজকে বন্ধু বলতে আনইযি ফিল করি কিন্তু সে এতটাই আন্তরিক যে নিমিষেই ব্যবধান দূর করে দেয়। শুধু আমি নই, অপরিচিত স্বল্প পরিচিত যে কেউ তার সামনে আসতেই সে এত দ্রুত তাকে আপন করে নেয় যেন কত দিনের চেনা। এমন গুণে নিজেকেও গুণান্বিত করতে ইচ্ছে করে কিন্তু এ গুণ হয়তো তার ফিতরাতি! বন্ধুত্ব করা যায় এমন যে ক’জন ব্যক্তি সমাজে আছে আমার এ বন্ধু তার শীর্ষে একজ।
.
কর্মজীবনে তিনি একের পর এক সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলেছেন। একাডেমিক শিক্ষা জীবন ফারেগের পর “মুন্তাদা আল-ইসলামিয়া”র একজন দায়ি-ইলাল্লাহ হিসাবে যোগদান করে তার কর্ম জীবন শুরু করেন। ফরিদপুরের ভাঙা থানার রহমানিয়া মাদরাসা ও মসজিদ তার প্রথম খেদমতস্থল, এরপর গাইবান্ধা হয়ে বগুড়া। ২০০৭ সালে সাড়া জাগানো, আলোচিত বগুড়া বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে শত শত আলেমে দ্বীনের ভেতর ইন্টারভিউতে প্রথম স্থান অধীকার করে ভারপ্রাপ্ত খতীব ও পেশ ইমাম হিসেবে যোগদান করেন। লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ৬শ আলেম অংশগ্রহণ করেন অতঃপর বাছাইতে মাওলানাকে নির্বাচন করেন বাইতুল মুকাররমের খতিব মরহুম মাওলানা নূরুদ্দির রহ.। এত অল্প বয়সী তরুনকে নির্বাচন করতে দেখে বগুড়াবাসী বিস্মিত হন। কেননা এত ডাকনামওয়ালা মসজিদে এই তরুন! মরহুম মাওলানা বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন-এই ছেলের উপর আস্থা রাখতে পারেন।
.
মাওলানার কথা তিনি রেখেছিলেন। অল্প ক বছরেই তিনি বগুড়াতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। ২০০৮ সাল থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যান। অপরিচিত নতুন জায়গাকে দ্রুত আপন করে নেন। মসজিদে কুরআন শেখানোর জন্য বাদ আসর ১০ মিনিটের মাদরাসা চালু করে মুসল্লিদের অন্তর জয় করেন। অসম্ভব পরিশ্রম করে একটি গড়ে তোলেন মাদরাসাতুল মাদীনা-বগুড়া। মাওলানার স্বল্প সময়ের এ উত্থানে এক শ্রেণীর মানুষ ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠে। অনৈতিক সমালোচনাও তাকে হজম করতে হয়। পদপিয়াসু দরবারী কিছু আলেমের ষড়যন্ত্রে তিনি কিছুটা নিভৃতচারী হয়ে উঠেন। সদা উচ্ছল মানুষটির কাজের কিছুটা ভাটা পড়ে। রবের পরীক্ষায় পড়ে যান তিনি। একে একে দুইটি মটর সাইকেল হারিয়ে ফেলেন তিন মাসের ব্যবধানে। বৈশাখী ঝড়ে উড়ে যায় মাদরাসার উপরে তার মাথাগোজার ঠাই। ক্লান্ত-শ্রান্ত বন্ধু আমার ছুটে যান রবের দরজায়। বাইতুল্লার দরজায় মাথা ঠেকিয়ে অপারগতার জানান দেন। অঝোরে কেঁদে চোখের পানির স্রোত বইয়ে দেন বাইতুল্লার বারান্দায়। সকল আর্জি জানিয়ে আসেন মালিকে কারীমকে। কী-চায় তা বলতে পারে না তবে ভালো ফায়সালার দরখাস্ত পেশ করে হজ্জ শেষে দেশে চলে আসে।
.
হজ্জ থেকে আসার একসপ্তাহ না পেরুতেই তার অন্য আরেক বন্ধুর কথায় ঢাকা আসেন। দেখা করেন তার বলে দেয়া মানুষের সঙ্গে। লোকটি রতন চিনতে দেরী করে নি। জুমা পড়ানোর জন্য বলেন। জুমার পর ইন্টারভিউতে হাই প্রোফাইল কমিটির মুখোমুখি হতে হয়। মাওলানার সাবলিল ইংরেজি বাংলা উচ্চারণে মুগ্ধ সভাপতিসহ কমিটি তখনই তাকে এখানে যোগদান করতে বলেন। তিনি সময় নেন। অনেক ভেবে রবের ফায়সালা মনে করে ঢাকার বারিধারা বাইতুল আতীক কেন্দ্রিয় মসজিদে যোগদান করেন। অনেকের কাছে স্বপ্নের এ মসজিদ আমি নিজেও মুগ্ধ এর পরিবেশে আমার বন্ধু এখানকার ঈমাম ও খতীব।
.
স্পষ্ট উচ্চারণে বয়ান তার। কুরআন হাদীসের কথা সরাসরি বলতে পছন্দ করেন। মুসল্লিগণও ব্যাপক সন্তুষ্ট নতুন এ খতিব পেয়ে। যেমন তিনি আরবী বলেন তেমনি আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করে সময়োপযোগী বয়ান করেন। মুসল্লিদের বড় আপন করে রাখেন। প্রতিদিন বাদ জুহর নিজেই কুরআনের ক্লাস নেন। প্রায় শতাধিক ছাত্র এ যাবত তার নিকট কুরআন হাতে নিয়েছে। তেমনি বিত্তবানদের পেছনে মেহনত করে প্রায় দুশ মক্তব প্রতিষ্ঠা করে নিজের তত্বাবধানে পরিচালিত করছে, যেখানে প্রায় ৮ হাজার ছাত্র -ছাত্রী।
.
শিক্ষা জীবনে তিনি হিফযুল কুরআন,তাকমিল/দাওরায়ে হাদিস,ইফতা, কামিল সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ইংলিশ স্পোকিং কোর্স করে ইংরেজি ভাষাকে দখলে রাখার চেষ্টা করেন।
.
.
মাওলানার শিক্ষার প্রতি খুবই ঝোক। বিশেষ করে সে কুরআন প্রেমিক। এ জন্য বন্ধু আমার প্রতিষ্ঠা করেছেন মাদরাসাতুল মদীনা বগুড়া, কাওয়াকিব সওতুল কুরআন মাদরাসা,ঢাকা, মাদরাসাতুল মদীনা মসজিদ, প্রতিষ্ঠাকালীন ভুমিকা রেখেছেন হালিমা খাতুন মহীলা মাদরাসা, রাণীগঞ্জবাজার দিনাজপুর, “স্কুল অফদা হলি কুরআন” বগুড়া। এ ছাড়া গাইবান্ধা থাকাকালীন হাসনের পাড়া মসজিদ মাদরাসার উন্নয়ন, সার্কিট হাউজ মসজিদের জায়গা ক্রয়সহ সামাজিক অনেক কাজেরই আঞ্জাম দিয়েছেন। শীতকালীন বস্ত্র, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ঈদের সময় আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য ঈদ সামগ্রি বিতরণসহ অনেক সামাজিক কাজে তিনি সক্রিয়।
.
অফলাইনের পাশাপাশি তিনি শোস্যাল মিডিয়ায় দারুন সক্রিয়। ফেসুবকে ৫ হাজার ফ্রেন্ড ফলোয়ারও ছয় হাজার! লেখালেখিতে কেমন তা তার পাঠকরাই জানে। এ ছাড়া ব্লগ, ইউটিউবসহ নেটের নারিনক্ষত্র চষে বেড়ান আমার এ বন্ধুটি।
.
ব্যক্তি জীবনে দু ছেলে সন্তানের জনক মুফতি মনোয়ার হোসেন আধুনিক কিন্তু সহজ সরল জীবন নির্বাহ করেন। রুচিশীল মানুষ হিসেবে প্রিয় বাহন ‘বাইক’ তার ভীষন পছন্দ। নিত্যনতুন কাপড় পরিধান করা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘুরতে যাওয়া, পাবলিক রিলেশন, পাখিপোষা, ঘন জঙ্গলে গাড় সবুজ বনানী তার প্রিয় জায়গা। অবসরে গজল শোনা, বই পড়া, কবিতা লেখা, তার প্রিয় কাজ। একাকী আনমনে দূরের আকাশ দেখে খৈ হারিয়ে ফেলে কখনো কখনো। পূর্ণিমার জোসনায় সাতার কাটা অভ্যাস তার আশৈশব। একসময়ে ক্রিকেট খেলা তার পছন্দের কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছিলেন।
.
বাবা-মা’র তৃতীয় সন্তান মুফতি মনোয়ার হোসেন। বাবা-মা জীবিত থাকায় সে খেদমত করে যেতে পারছে। সকল আত্মীয়দের খোজ রাখা, উম্মার এ নবীনের জন্য রব্বুল আলামিনের দরবারে এই প্রত্যাশা রাখি তিনি যেন আমার বন্ধুকে দেশ ও জাতীর কল্যাণে বাঁকি জীবনটাকে ব্যয় করার তাউফিক দান করেন।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

লেখক: মুফতী আব্দুল কাহহার বিন খলিল, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × five =