মিথ্যা না বললে কি ব্যবসায় লাভ করা যায় না?

মিথ্যা না বললে কি ব্যবসায় লাভ করা যায় না?

রমযানের আগে শাহজাদপুর সুবাস্তু মার্কেট থেকে আহলিয়ার জন্য একটা জামা কিনেছিলাম। কিন্তু কালারটি সাদা হওয়াতে কারোই তেমন পছন্দ হয়নি। িআমারও ভাল লাগছিল না। তাই ভেবে রেখেছিলাম সুযোগ পেলে চেঞ্জ করব। অন্য কোন কালার নিব। কিন্তু অনেক দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তার ভিতর ছিলাম। এত দিন পরে চেঞ্জ করে দিবে কিনা বা অন্য পছন্দনীয় কালার পাব কিনা!

আজ কিছু কেনাকাটা করতে সুবাস্তু গেলাম। অনেক খুঁজাখুঁজি করে সেই দোকানটি পেলাম। কালার চেঞ্জের কথা বলে জামাটি বের করে দিতেই দোকানদার খুশিতে লাফ দিয়ে উঠল!

দোকানি বললেন, “আরে এই জামাটিই তো খুঁজতেছি। এই জামাটি আর পাইতাছি না। এই জামাটা কত দিয়ে নিছিলেন?
বললাম, দুই হাজার।

তিনি বললেন, ‘এখন এইটা একদাম সাড়ে চার হাজার বেচমু। পরে আইসা আপনে নিলেও সাড়ে চার দিতে হইব!’

এরপর সঙ্গে সঙ্গে অন্য কালারগুলো বের করে দিল। আমরা অন্য একটা কালার পছন্দ করলাম এবং জামা না খুলেই নিয়ে চলে এলাম। যেহেতু একই জামা তাই খুলে দেখার প্রয়োজন মনে করলাম না।

কিন্তু ওই সময়ই দোকানদারের আচরণ অনেকটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল! এক মাস পর গেলাম অথচ কোন কিছু না বলে খুশি খুশি এত সহজে কাপড় চেঞ্জ করে দিল। সাথে অতিরিক্ত ধন্যবাদ দিল। আবার দুই হাজারের ড্রেস সাড়ে চার হাজার বিক্রি করবে বলল! ঈদ বলে কী এত দামে বিক্রি করতে পারবে?

বাসায় আসার পর রহস্য ফাঁস হল। সম্পূর্ণ ডুপ্লিকেট ড্রেস! ডিজাইন এক কিন্তু কাপড় ও অন্যান্য কাজ, লেস ফিতা সব দুই নাম্বার। আগের কাপড়ের মানের সাথে এই কাপড় আকাশ পাতাল তফাৎ। পুরা বাটপারি!

ড্রেস দেখার পর থেকে বাবুর মার মন খারাপ। বলল, ‘মানুষ এত বাটপারি কর‍তে পারে, দোকানদার বললেই তো পারতো এই জামা আগের কোয়ালিটি সম্পন্ন না। যদি এরপরও আপনারা নিতে চান নিতে পারেন। তাহলে তো আমরা নিতাম না।’

আসলে অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের মাঝে সততা নেই। আমানতদারীতা নেই। যে যেভাবে পারছে মিথ্যা বলছে। বাটপারি করছে। ধোকা নিয়ে বিক্রি করছে। কোন ভয়ডর নেই। কিঞ্চিত ঈমান থাকলেও আমলের লেশমাত্র নেই। দুনিয়াটাকেই সব মনে করছে। আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস নেই। হিসাব নিকাশের প্রতি ভ্রূক্ষেপ নেই। শুধু টাকা কামানোকে একমাত্র কাজ মনে করে। যেভাবেই হোক টাকা উপার্জন করতে হবে এই অভিপ্রায় প্রায় সকলের মাঝে। ছোটকালে শুনেছিলাম, মিথ্যা না বলতে নাকি ব্যবসায় লাভ করা যায় না।

সৎ, বিশ্বস্ত, আমানতদার ব্যবসায়ীও আছে কিন্তু তারা সংখ্যায় খুব কম। অধিকাংশ ব্যবসায়ী ধোকা দিয়ে, মিথ্যা বলে ব্যবসা করে। তাই দেখা যায় হুজুর বেশধারীরা কোনও দোকান দিলে সেই দোকান বেশি চলে। আমি নিজেও দাড়ি টুপিওয়ালা দোকান পেলে সেটাতেই আগে ঢুকি। এটা এই পোশাকের প্রতি মানুষের বিশ্বাস। সর্বত্র ধোঁকাবাজের ভিড়ে মানুষ এই লেবাসের মাঝেই আস্থা খুঁজে পায়।

মাসআলা সবাই জানে কিন্তু আমল করতে চায় না। কেউ যদি মিথ্যা বলে, ধোকা দিয়ে, বাটপারি করে ব্যবসা করে সেই ব্যবসা হারাম। ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ হারাম। এর হিসাব আল্লাহর দরবারে দিতে হবে। কিয়ামতের মাঠে এর পরিপূর্ণ হিসাব দিয়ে সামনে এগুতে হবে। আল্লাহ মাফ না করলে কোন উপায় নেই। এর জন্য জাহান্নামে জ্বলতে হবে। আল্লাহ ব্যবসায়ীদের সহীহ বুঝ দান করুন। সততার সাথে ব্যবসা করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: হাসান সিদ্দিকী, সহকারী মুফতী, জামিয়া মদীনাতুল উলূম ভাটারা, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + 9 =