কাতারকে নিয়ে সৌদি জোটের এ কেমন আচরণ?

কাতারকে নিয়ে সৌদি জোটের এ কেমন আচরণ?

সৌদি আরব বুশের পলিসি মেনে চলে। Either you are with us or against us. (হয় তুমি আমার সাথে, না হয় আমার বিরুদ্ধে)।

আর এই আমার সাথে মানে, চোখ-বিবেক-মানবতা সব বন্ধ করে আমার সাথে। আমার যত পলিসি সব মানতে হবে, কিছুতেই অন্যথা হওয়া যাবে না। হলে তোমাকে আমার শত্রু গণ্য করে এক ঘরে করা হবে।

এই ব্যাপারে কাতার তার অফিশিয়াল স্টেটমেন্টে বলেছে, ” Their purpose is clearly the imposition of guardianship over Qatar, which is in itself a violation of its sovereignty, and is rejected outright.” (আলজাজিরা)

মরিশাস আর মালদ্বীপও সৌদিদের মত কাতার এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এই পর্যন্ত মোট ছয়টি দেশ সম্পর্ক ছিন্ন করল। সৌদি রিয়াল টক্স। বাংলাদেশও হয়ত সৌদি প্রেসারে কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আফটার অল হাসিনার সব কাজেই সৌদিদের সমর্থন আছে, এবং সৌদির সাথে হাসিনা সরকারের সম্পর্ক ভালো। কয়েকদিন আগেই ১ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে মসজিদ বানানোর জন্য।

আজ কাতার থেকে হামাসের কিছু উপর লেভেলের নেতাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। তারা সম্ভবত মালয়েশিয়া, তুরস্ক, এবং লেবাননে চলে যাবে বলে জানিয়েছে। হামাসের নেতাদের বেতনের এক অংশ কাতার থেকেও আসে। কাতারের সাথে তুরস্ক এবং ইরানের সম্পর্কও ভালো।

ওদিকে প্রতিদিন গাজায় ইসরায়েলি সেনারা মানুষকে গুলি করে হয় আহত নয় মেরে ফেলছে। সৌদি জোটের তা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নাই। উলটা লিকড ইমেইল থেকে জানা গেছে আমিরাতি সরকারের সাথে ইসরায়েলের দহরম মহরম, কাতার-কুয়েতকে একঘর করার নানান ফন্দি ফিকির। এবারের ঘটনার শুরু সেখানেই।

তবে অস্বীকার করা যাবে না গাদ্দাফি পতনে কাতারের ভূমিকা। মধ্যপ্রাচ্যে জনমত তৈরিতে আল জাজিরার ভূমিকা। এই সবই সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের জন্য হুমকি।

ট্রাম্পের ইরান বিরোধী কঠোর অবস্থান, আর তার সাথে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়ের ডীল সৌদি আরবকে অত্যন্ত বোল্ড করে তুলেছে। সৌদি আরব আর ইসরায়েল উভয়েই চায় আমেরিকা ইরানকে অক্রমণ করে দুর্বল করে দিক। সৌদি আরব-আমিরাত ভালো হিসাব নিকাশ করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে করে দুই দেশে বসবাসরত উভয় দেশের নাগরিকদের কি দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাতে এই জোটের কিছু আসে যায় নাই।

কাতার মিসরের স্বৈরশাসক সিসির ঘোর বিরোধী। আর সিসি সরকার সৌদি বাদশাহর পছন্দের সরকার। এখানেও আরেক সংঘাত কাতারের সাথে সৌদির।

তবে ভুলে গেলে চলবে না কাতার উপসাগরীয় দেশ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ধনী দেশ। তাদের ফরেইন পলিসি (পররাষ্ট্রনীতি) আর ডিপ্লোম্যাসি (কূটনীতি) একবিংশ শতাব্দির জন্য অনেক বেশী প্রযোজ্য। যেখানে সৌদি আরব, আমিরাত, এমনকি ট্রাম্প চায় বিংশ শতাব্দীতে যার যার দেশকে ফিরিয়ে নিতে। তাদের রাজতন্ত্র ইচ্ছা মতন পলিসি নিবে, মিডিয়া তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করবে না, জনগণ আধা ঘুম আধা জাগরণে থাকবে। সেখানে কাতারের ওপেন পলিসি আর আলজাজিরা বাদ সাধছে।

আমার মনে হয়, কাতার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে, সম্পর্ককে যতদূর পারে নর্মালাইজড (স্বাভাবিক) করতে। কাতার আমিরের বুদ্ধিমত্ত্বা নিয়ে সুনাম আছে। দেখা যাক।

উল্লেখ্য, আরব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইয়েমেন ও মিশর।

আইএস, আল কায়েদা, মুসলিম ব্রাদারহুডসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে কাতার ‘মদদ দিচ্ছে’ বলে দেশগুলোর অভিযোগ।

তবে কাতার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সমন্বিত এই সিদ্ধান্ত ‘দুঃখজনক ও ভিত্তিহীন’।

রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার আলাদা বিবৃতিতে পাঁচটি দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয়।

এর মধ্যে উপসাগরীয় তিন দেশ সৌদি, বাহরাইন ও আমিরাত দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভূখণ্ড থেকে কাতারের সব নাগরিককে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =