ধীরে ধীরে যেন দ্বীন থেকে সরে না যাই

ধীরে ধীরে যেন দ্বীন থেকে সরে না যাই

রব্বে কারীম আরশেল আযীম ইরশাদ করেন-
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ
-নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন।(হা-মীম সেজদাহ্ – ৩০)
.
উপরের আয়াতটি ঈমানের উপর অবিচল থাকার পুরস্কার বর্ণনা করা হয়েছে।আর ঈমানের প্রমাণ হলো অন্তরের বিশ্বাসকে আমলে বাস্তবায়ন করা।হাদীসে রসুুুলে নবী স.ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলার নিকট অল্প আমলও পছন্দনীয় যদি সেটি নিয়মীত হয়।
.
রমযান শেষ:
রমযানে আমরা আমলের প্রাকটিস করেছি।শিখেছি কীভাবে আমল করতে হয়। কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ আদায়, রোজা রাখা প্রভৃতি আমল যা আমাদেরকে ক্রমশ আল্লাহর প্রিয়তম করবে। রবের নিকটবর্তী করে দেবে। জান্নাত অর্জন হবে।মনে রাখতে হবে রোজা শেষ কিন্তু কোন আমলই শেষ হয়নি শুরু মাত্র।
.
প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত:
তিলাওয়াত,অর্থ বুঝা, আমল করা ও অন্যদেরকে কুরআনের তা’লীম দেয়া বা দাওয়াত পৌঁছানো, এগুলো কুরআনের হক্ক। হক্ক আদায় করলে কুরআন পক্ষে স্বাক্ষী দেবে, নইলে বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। আল্লাহর রসুল স. কুরআন পাঠকের জন্য সুপারিশ করবেন নইলে আল্লাহর কোর্টে বিচার দেবেন তিনি। তাই, হে আমার ভাই বোন আসুন প্রতিদিন আমরা কুরআন স্পর্শ করি। সান্নিধ্য নেই। অন্তত কিছু সময় কুরআানের জন্য বিনিয়োগ করি।
.
শাওয়ালের রোজা:
নগদ নগদ করতে পারি। কাল থেকেই শুরু করে দেই। রসুল স. বলেছেন-
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
‘‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে ফরয সিয়াম পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসেও আরো ৬ দিন সওম পালন করল সে ব্যক্তি যেন সারা বছর ধরে রোযা রাখল।’’ (মুসলিম : ১১৬৪) আসুন কাল থেকেই শুরু করি।
.
ফরয নামায:
ভাবছেন কয়েকদিন পর থেকে ভালোভাবে শুরু করবেন। নাহ। আজই এখনি ঠিক রাখেন। শয়তান ধীরে ধীরে অলসতা দিয়ে দেবে। অন্তর গাফেল হয়ে যাবে। আপনি চাইবেন কিন্তু অন্তর আপনার গাফেল তাই আসতে পারবেন না। আগামি কাল ফযর আর শুরু হবে না। জুহর আর আসবে না। তাই ঝেড়ে ফেলে চলে আসুন আল্লার সান্নিধ্যে।
.
গোনাহ কমান:
কিছু ছোট ছোট গোণাহ হয়ে যায়। দৃষ্টির খিয়ানতসহ আরো যা হতে পারে।পরিকল্পিতভাবে তা কমিয়ে আনি। হালাল উপার্জন করি। নিজের বাসা দ্বীনের উপর চালাতে চেষ্টা করি। দৈনিক কিছু হাদীস ও কুরআনের তা’লীম করি। নইলে সময়ের স্রোত আমাকে উল্টো দিকে নিয়ে যাবে। জাহান্নামের পথে পরিচালিত করবে।অথচ আল্লাহ আমাদেরকে ডাকেন জান্নাতের দিকে। আসুন না আমরা প্রচলিত স্রোতের বিপরীত চলে নিজেকে জান্নাত লরিয়েট বানাই,ঠিক সাহাবা রিদওয়ানুল্লাহী তাআলা আজমাইনদের মত! আল্লাহ আমাদের তাউফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: খতিব, বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × three =