অবশেষে সরানো হলো গ্রিকদেবীর মূর্তি

অবশেষে সরানো হলো গ্রিকদেবীর মূর্তি

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরানো হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে সরানোর কাজ শুরু হয়। কয়েকজন শ্রমিক সরানোর কাজ করেন।

ভোররাত ৪টার দিকে ভাস্কর্যটি ক্রেনের সাহায্যে পিকআপ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। মূর্তিটি হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভাস্কর মৃণাল হক। খবর বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর ডটকমের।

মূর্তি সরানোর সময় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। মূর্তি সরানোর সময় উপস্থিত ছিলে তার নির্মাতা মৃণাল হক।

এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্রসমাজের নেতা এ মাসুদ খান রাত দেড়টার পর এর প্রতিক্রিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্রঐক্যের আরও একটি দাবি সরকার মানতে বাধ্য হলো।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে গ্রিক দেবী থেমিস এর মূর্তি অপসারণ এর কাজ চলছে।
এর আগে ইসলাম বিদ্বেষী পাঠ্যসূচি পরিবর্তন এর আন্দোলনেও আমরা অনেকাংশে সফল হয়েছি।
প্রতিশ্রুতিশীল আটটি ছাত্র সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্রঐক্যের সকল নেতাকর্মীকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন, দেশবাসীকে দোয়া ও সমর্থন দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, দেশ ও ইসলাম বিরুদ্ধ যে কোন অপতৎপরতা প্রতিরোধ করতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সোচ্চার থাকার তাওফিক দান করুন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের এই দাবির নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার একেবারেই বিপরীত। অবিলম্বে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ইমান, আকিদা ও ঐতিহ্য রক্ষায় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাতে গণভবনে কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এক সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ, গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে। এটা তো আমাদের দেশে আসার কথা না। আর গ্রিকদের পোশাক ছিল একরকম, সেখানে মূর্তি বানিয়ে তাকে আবার শাড়িও পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিত নয়। আমি আপনাদের বলব, আপনারা ধৈর্য ধরেন। এটা নিয়ে কোনো হইচই নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে, সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা একটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × one =