যে কারণে আমেরিকার ওই শহরটি ভূতুড়ে হয়ে উঠলো!

যে কারণে আমেরিকার ওই শহরটি ভূতুড়ে হয়ে উঠলো!

সময়টা ১৮৬৫, আমেরিকার গৃহযুদ্ধের শেষ বছর। সে সময় বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারের রমরমা অবস্থা, একেক ব্যারেল তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩.৭৫ ডলারে আর একেকটা তেলের কুপে প্রতি একডলার বিনিয়োগে লাভ হচ্ছে ১৫,০০০ ডলার!

ছোট্ট শহর পিটভিলে সে বছর জানুয়ারীতে একটি তেলের কুপের সন্ধান মেলে। এর ছয় মাসের মধ্যে আরো চারটি কুপের সন্ধান মেলে এবং সেগুলো থেকে প্রতিদিন ২০০০ ব্যারেল তেল পাওয়া যেত। শুরু হলো পিটভিলে তেল খোঁজা আর তার লোভে হুমড়ি খেয়ে সেখানকার জমি কেনা।

সে বছর জুলাই মাসে ঐ এলাকার একটি খামার ১৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয় আর সেই একই খামার সেপ্টেম্বরে আবার বিক্রি হয় ২০ লাখ ডলারে। ওদিকে তদ্দিনে পিটভিলের তেলকুপগুলো থেকে প্রতিদিন ৬০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন হতো।

ছোট্ট শহরটায় শয়ে শয়ে মানুষ আসতে লাগলো, ব্যাংক, পানশালা, রেস্তোরাঁ আর গোটা পঞ্চাশেক হোটেল খোলা হলো সে শহরে। সেই হোটেলের রুমগুলোতে জায়গার অভাবে খড়ের বিছানা করেই ছয়-সাতজন করে একেকটা ঘরে থাকতো, শহরের সমস্ত গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছিল আর তেলের বিশ্রী গন্ধওয়ালা শহরটাতে বৃষ্টি হলেই গোটা এলাকা থকথকে কাদায় ভরে যেত।

সেসময়কার সামাজিক অবস্থার বিবরণ পাওয়া যায় এক স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকের লেখায়। তিনি বলেন যে, পিটভিলের পানশালাগুলো হয়ে গেছে উদ্দাম, সামাজিক বন্ধন ভেঙ্গে গেছে, মানুষ কেবল পাগলের মতো তেল আর টাকার পেছনে ছুটছে, যাকে তিনি আখ্যা দেন ‘মহামারী’ বলে। আর তিনি তার লেখার শেষদিকে আশংকা প্রকাশ করেন যে এই বিশাল আশার বুদবুদটা আজ হোক কাল হোক ঠুস করে ফুটে যাবে। হলোও তাই!

ওই বছরের শেষেই পিটহোলের লোকেরা ভয়ার্ত চোখে দেখলো যে খনিতে আর তেল পাওয়া যাচ্ছে না! যে গতিতে মানুষ শহরে আসছিলো তার চেয়েও বেশী গতিতে তারা শহরটিকে পরিত্যাগ করলো। এক বছরের মাথায় পিটভিল পরিনত হলো এক ভূতুড়ে শহরে। জমির ব্যাবসাওয়ালারা বিরাট ধরা খেল, সাথে হোটেল, ব্যাংক আর অন্য ব্যবসায়ীদেরও লালবাতি জ্বললো।

আর ২০ লাখের জমিটার কি হলো! সেটি ১৮৭৮ সালে নিলামে তোলার পর বিক্রি হয়েছিল- চার ডলার ত্রিশ সেন্ট-এ।
( দি কমপ্লিট বুক অফ গ্রিড- হির্শ গোল্ডবার্গ থেকে ভাবানুবাদ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + 3 =