“আমার জন্য মৃত্যুকুপ থেকে ফিরে আসার দিন”

“আমার জন্য মৃত্যুকুপ থেকে ফিরে আসার দিন”

আগের সিদ্ধান্ত মতে আমরা গাড়ি নিয়ে লালবাগ মাদ্রাসা থেকে ঢাকার ভিবিন্ন স্পটে অবস্থান নেওয়া নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করার লক্ষে বের হয়ে পড়ি, মাশাআল্লাহ্ ঢাকার অলি-গলি হেফাজত কর্মীদের দখলে, আল্লাহু আকবার শ্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে ঢাকার রাজপথ। বেলা দুইটাই আওয়ামিলীগ অফিসের সামনে গোলাপ শাহ্ মাজার সংলগ্ন মসজিদে যুহরের নামাজ আদায় করে বের হতেই আওয়মী সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহীনির নগ্ন হামলা, শুরু হয় ত্রি-মুখি সংঘর্ষ। চাপাতি আর লোহার রড দিয়ে আওয়মী সন্ত্রাসীরা চোখের সামনেই অনেক দ্বীনি ভাইকে নির্মমভাবে কূপাতে থাকে আর পুলিশ চালায় গুলি ও টিয়ারসেল এক পর্যায়ে আমি (আ ন ম আহমদ উল্লাহ) ও আমার সহ-যোদ্ধা জুনাঈদ জওহার জাওহার, মুহাম্মদ ইউনুচ, ইকবাল খলিলসহ কয়েক শত লোক মসজিদের ভিতরে অবস্থান করি। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মসজিদের দরজা ও জানালা দিয়ে আমাদের আঘাত করতে চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘন্টা মসজিদের ভিতর জিম্মি থাকার পর মসজিদ থেকে বের হতেই আবার হামলা, হঠাৎ দেখি মধুপুরের পীর সাহেব হুজুরের নেতৃত্বে লক্ষ জনতার এক বিশাল মিছিল, এবার পুলিশ নিরব, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আমারা মজসিদ থেকে বের হয়। মনে হচ্ছে মৃত্যুকুপেই আমাদের অবস্থান, চতুর্দিকে এক অজানা আতংক, কোন দিকে আমাদের যাওয়া তা বুঝাই যাচ্ছেনা, সংঘর্ষের সময় ইকবাল খলিলকে হারিয়ে ফেলি এবং আমার জামা ছিড়ে যায়, পায়ের জুতা হারিয়ে ফেলি। এরপর আমি, জুনাঈদ ও ইউনুচ অচেনা এক গলিতে ঢুকে পড়ি, একটু যেথেই মোটরসাইকেল আরোহী ২০/৩০ জন যুবকের ধর ধর আওয়াজ শুনতেই বুকে কম্পন শুরু, আমরা আতংকিত হয়ে উঠি, মনে হচ্ছে জীবনের শেষমুহুর্ত চলে আসছে, তারপরেও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, তাই মনটাকে শক্ত করি এবং এক বিল্ডিং এর সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে থাকি, অজানা গলি, অচেনা মানুষ, তার উপর আমার চেড়া জামা, জুতা ছাড়া পাঁ আরো আতংক বাড়িয়ে দেয়, সিঁড়ির নিচ থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছিনা, হটাৎ দুইজন যুবক আমাদের দেখে ফেলে, তারা সিঁড়ি লক্ষ করে সামনে আসতে থাকে, মনে হচ্ছে আর বাচাতে পারবনা, কিন্তু সামনে আসতেই আমাদের চোখে মুখে আতংকের চাপ দেখেই তারা বুজতে পারে আমারা কি চাই, কথা বলতেই বুঝতে পারি তারা হাচিনার লেলিয়ে দেওয়া রক্তখোর আওয়ামী সন্ত্রাসী নয়, ফলে হারানো সাহস ফিরে পেলাম, মনকে আরো শক্ত করলাম।

যেহেতু আমার জুতা নেই সেহেতু তাদের একজনের জুতা আমাকে পড়তে দিয়ে বলে, ভয়ের কারন নেই আমরা আপনাদের ভাই, কয় যাবেন বলেন, আমরা লালবাগ যাবো বলার সাথে সাথে তারা আমাদেরকে পুরান ঢাকার এক চিবা গলদি দিয়ে লালবাগ নিয়ে যাচ্ছেন, আমরাও আতংকের মধ্যেই তাদের অনুসরণ করছি, পরিশেষে ঐ দুই ব্যাক্তির সাহায্যে লালাবাগ চলে আসলাম, হঠাৎ দেকি তারা উধাও, এই ছিল, এই নেই। একটা ধন্যবাদও দিতে পারলাম না।

কৌতুহল বেড়ে গেলো, কারা ছিলো তারা??? কেন আসলো আমাদের বিপদে??? উপকার করে কি, এভাবে কেউ চলে যায়??? আচ্ছা চলে যাবে, তো বলে যাবেনা???
যাই হোক, বান্দার বিপদে আল্লাহ সহায়, তা বুঝলাম।
অবশেষে ফিরে আসলাম মৃত্যুকুপ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − eleven =