বিপর্যস্ত বিচার ব্যবস্থাকে বাঁচাতে ইসলামের পথই অপরিহার্য

বিপর্যস্ত বিচার ব্যবস্থাকে বাঁচাতে ইসলামের পথই অপরিহার্য

সৌদি আরবের রাজ পরিবারের যুবক প্রিন্স তুর্কি বিন সউদ আল-কাবির। কিছু দিন আগে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ খবরটি প্রচার হয় গত ১৯ ও ২০ অক্টোবর ২০১৬।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, রাজ পরিবারের (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) এই যুবক সদস্য তিন বছর আগে, ঝগড়ার সময় গুলি করে একজন সৌদি নাগরিককে হত্যা করেছিলেন। বিচারপতি তাঁর রায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। অপরদিকে তার গুলিতে নিহত ব্যক্তির স্বজনরা মৃত্যুপণ গ্রহণ করে প্রিন্সকে ক্ষমা করতে অসম্মতি জানিয়ে দেন। এরপরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

যে পরিবার দেশ শাসন করছে তাদের কোনো যুবক সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সৌদি আরব শুধু নয়, সাম্প্রতিক পৃথিবীতে বিরল। তবে ইসলামী বিচার ও মুসলিম জাতির ইতিহাসে এ জাতীয় ঘটনা খুব বিরল নয়।

সৌদি আরবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের অনুসরণে চলে এবং এ কারণেই পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোর চেয়েও সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবসময় উন্নত থাকে এবং অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় ফৌজদারি অপরাধগুলো সে দেশে কম সংঘটিত হয়ে থাকে।

ইসলামী আইনের চোখে সবাই সমান এবং কোনো মানুষেরই কোনো আলাদা শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা তুচ্ছতা নেই। রাজা-বাদশা, নেতা,মন্ত্রী,এমপি কিংবা দল ও পদের কোনো প্রভাব নেই। নেই সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে খুন-জখম, ধর্ষণ ও লুটপাট চালিয়ে যাওয়ার অবকাশ। শাস্তির বিধান ও কার্যকারিতা সবার ক্ষেত্রে সমান। হত্যার দায়ে প্রিন্সের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ইসলামী আইনী সমতার উজ্জ্বল নিদর্শনটি আরেকবার প্রমাণিত হলো।

ইসলামী আইনের সঠিক ও সমতাপূর্ণ এই বিচারের ঘটনাটি থেকে সব দেশের সবাই শিক্ষা নিতে পারেন। ইসলামী নীতি ও আইনের সাধারণ সুগন্ধিও যেখানে থাকে- সেখানেও সুবিচারের আলো বহু অন্যায়ের অন্ধকার দূর করে দিতে পারে। আমাদের বোধ, চিন্তা ও আকাঙ্খার পুনঃবিন্যাসে এই সুবিচারের ঘটনাটি অনেক বড় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

লক্ষ্য করুন, মুসলিম বিশ্বের যে কোনো ‘ত্রুটি-বিচ্যুতি’ দেখলেই যারা দফায় দফায়, বাটার, ঘি, মাখন লাগিয়ে প্রচার করেন- সে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেন বিরস বদনে বড় অনিচ্ছায় এই খবরটি খুব ছোট করে প্রকাশ করেছে। তাদের ভয়- বড় ভয় – এ জাতীয় ঐতিহাসিক বিচারের খবরে যদি ইসলামী শাসনের ন্যায়পরায়ণতার কিছু ঝলক সামনে চলে আসে। ইসলামী আইন ও বিচারের প্রতি সর্বাত্মক মুগ্ধতা,গ্রহণযোগ্যতা যদি বৃদ্ধি পায়। মানুষ যদি তাদের ভুল মত ও চিন্তাটাকে আবার শুধরে নেন। আবার আম জনতার ভেতর যদি মুগ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যায়। ইসলাম আর মুসলমানের প্রতি ‘বিতৃষ্ণা’ ও ‘অনীহা’ যদি কমে যায়।

চিন্তা করুন, প্রিন্স তুর্কি বিন সউদ আল-কাবির যদি বাংলাদেশের কোনো নেতা, এমপি-মন্ত্রীর সন্তান হতেন, কিংবা প্রভাবশালী পরিবারের কেও হতেন তাহলে কি হতো?

এই দল, সেইদল নয়- সব দলের দাপুটে নেতা, এমপি-মন্ত্রী ও নেতা-নেত্রী, প্রভাবশালী ধনকুবের, এবং তাদের ‘নিষ্পাপ’? বাচ্চাদের দৌরাত্ম্য, দুর্বৃত্তপনা অনেক সময় আরশ কাঁপিয়ে দেয়, মানুষের চোখের পানি শুকিয়ে দেয়। কিন্তু সেসবের সহজে কোনো বিচার পাওয়া যায় না।

ইসলাম ব্যতিক্রম- সব সময়, সর্বত্র, চিরকাল। ইসলামের নির্ভুল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায় বিচারের সার্মথ এখনও অম্লান, অটুট। আল্লাহর প্রদর্শিত এ পথটি এখনও অক্ষত তার বিস্ময়কর নির্ভূলতা নিয়ে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সুস্থতা বিধানে, বিপর্যস্ত বিচার ব্যবস্থাকে বাঁচাতে ইসলামের পথই অপরিহার্য। আসুন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 5 =